বাফুফের নির্বাচন আজ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। ভোটের ভেন্যু হোটেল সোনারগাঁওই ভোটারদের আপাত ঠিকানা। সেখানেই চলছে নানান হিসেব-নিকেশ। আজ শনিবারের বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন। সামনের চার বছরের জন্য দেশের ফুটবল পরিচালনার ভার উঠতে যাচ্ছে কার হাতে? টানা তিনবারের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম মানিক, নাকি নির্বাচনে অনীহা জানিয়েও আইনি জটিলতায় ব্যালটে নাম থেকে যাওয়া প্রার্থী বাদল রায়ের? রায় দেবেন সারা দেশ থেকে আসা ১৩৯ জন ভোটার। যদিও দিনশেষে একজনের মুখেই ফুটবে হাসি। করোনাভাইরাসের কারণে গত ২০ এপ্রিল নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন হতে পারেনি। এখন পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক বলেই তা হচ্ছে। ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনেও সভাপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তবে এই নির্বাচনে সভাপতি বাদেও আছে ২০টি পদ। মোট ২১টি পদের জন্য এবার লড়ছেন ৪৭ জন প্রার্থী। দৃশ্যত দুটি পরিষদের মধ্যে লড়াই হবে। একটি দায়িত্বে থাকা কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ, অন্যটি শেখ আসলাম-মহিউদ্দিন মহির নেতৃত্বে সমন্বয় পরিষদ। এই পরিষদে ঘোষিত কোনও সভাপতি প্রার্থী নেই। যদিও আগের রাতেই সভাপতি পদে বাদল রায়কে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বলে খবর চাউর হয়েছে।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে সালাউদ্দিন পরিষদের আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও শেখ মোহাম্মদ আসলামের মধ্যে লড়াই হবে। চারটি সহ-সভাপতি পদে আটজনের মধ্যে হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সালাউদ্দিনের সঙ্গে সহ-সভাপতি প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ, ইমরুল হাসান, আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও আমিরুল ইসলাম বাবু। অন্যদিকে আছেন মহিউদ্দিন আহমেদ মহি,শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান ও আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। এছাড়া স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন তাবিথ আউয়াল। ১৫টি সদস্য পদে লড়াই করছেন ৩৪ জন প্রার্থী। শনিবার দুপুর ২ থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত হবে ভোটগ্রহণ। এর আগে সকাল ১১টা থেকে হবে নির্বাচনি কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। করোনাভাইরাসের কারণে এবার ফিফা-এএফসির কোনও প্রতিনিধি সরাসরি ভোট কেন্দ্রে এসে পর্যবেক্ষণ করছেন না। ভার্চুয়াল জগত থেকেই তারা সবকিছু দেখবেন। একটি কথা বলে রাখা দরকার। নির্বাচনে কাজী সালাউদ্দিন-কাজী নাবিলদের কোনও ভোট নেই। ফিফা-এএফসির নিয়মানুসারে বাফুফেতে নির্বাচন হয়। বর্তমান কারযনির্বাহী পরিষদে যারা আছেন সেই নিয়মে তারা কেউ ভোটার হতে পারবেন না। এর মানে দাড়াচ্ছে তারা কেউ ভোট দিতে পারবেন না! তবে নির্বাচনে জিততে সবাই মরিয়া। বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তো বেশ আশাবাদী, ‘আমি এর আগে তিনটি বাফুফেতে নির্বাচন করেছি। তিনটি সাফের নির্বাচন করেছি। সব নির্বাচনই কঠিন। প্রতিপক্ষও কঠিন হবে। তবে আমি আশাবাদী জিততে পারবো। আমাদের পুরো প্যানেল জিতবে।’
শফিকুল ইসলাম মানিক পরিবর্তনে বিশ্বাসী, ‘নির্বাচনে কাউন্সিলররা আমাকে ভোট দেবে। সঠিক সিদ্ধান্ত জানাবে। এমন বিশ্বাস আছে। আমি পরিবর্তন চাই। সেই লক্ষ্যেই আছি।’ আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘এতদিন কাজ করেছি। তার মূল্যায়ন নিশ্চয়ই হবে। ভোটাররা সঠিক জায়গায় ভোট দেবে।’ শেখ মোহাম্মদ আসলামের কথা, ‘পরিবর্তনের জন্য ভোটাররা আমাদের ভোট দেবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি সঠিক রায় পাবো।’ সহ-সভাপতি পদে অন্যতম প্রার্থী আবাহনী লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, ‘চ্যালেঞ্জ প্রতিদিনই বেড়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন সংগঠক আসছেন। সকলেই কাজ করছেন। সকলে ইতিবাচকভাবে কাজ করতে চান। চ্যালেঞ্জ বাড়তির দিকেই থাকে। তবে আশা করছি আমি চ্যালেঞ্জে জিততে পারবো।’ ১৫টি সদস্য পদে ৩৪ প্রার্থীও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। শনিবারের রাতই বলে দেবে আগামী চার বছরের জন্য বাফুফেতে চালকের আসেন কারা বসতে যাচ্ছেন। বাফুফে নির্বাচনে যারা প্রার্থী: সভাপতি (একটি পদ): কাজী সালাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম মানিক ও বাদল রায়।
সিনিয়র সহ-সভাপতি (একটি পদ) : আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও শেখ মুহাম্মদ আসলাম। সহ-সভাপতি (চারটি পদ): কাজী নাবিল আহমেদ, ইমরুল হাসান, আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, মহিউদ্দিন মহি, শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান ও তাবিথ আউয়াল। সদস্য (১৫টি পদ): হারুনুর রশীদ, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, মাহফুজা আক্তার কিরণ, সত্যজিৎ দাস রুপু, ইলিয়াছ হোসেন, বিজন বড়ুয়া, ইকবাল হোসেন, অমিত খান শুভ্র, মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, জাকির হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ রিয়াজুল করিম, কামরুল হাসান হিলটন, ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, আসাদুজ্জামান মিঠু, নুরুল ইসলাম নুরু, আমের খান, শাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া, টিপু সুলতান, আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, সাব্বির হোসেন, মহিদুর রহমান মিরাজ, মঞ্জুরুল আহসান, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, কাজী মো. রফিক, এএনএম আমিনুল হক, আরিফ হোসেন মুন, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ মোস্তাক আলী, মিজানুর রহমান, ফজলুর রহমান বাবুল, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, রায়হান কবির, সাইফুর রহমান মনি ও শাকিল মাহমুদ চৌধুরী।