যশোরে কৃষকদলের অনুষ্ঠানে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মুনাফা লুফে নেয় মধ্যস্বত্বভোগী রাঘববোয়ালরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে এসেও দেশের কৃষক সমাজ শোষিত-বঞ্চিত। কৃষিনির্ভর এই দেশের কৃষকদের আজও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করতে হয়। তাদের ফসলের মুনাফা লুফে নেয় মধ্যস্বত্বভোগী নামের এক শ্রেণির রাঘববোয়ালরা। যে কারণে রাতারাতি দেশের অতি মুনাফালোভীদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেও কৃষকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না।
তিনি গতকাল রোববার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা কৃষকদলের শাক-সবজি, বীজ ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের কৃষিখাতে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি একের পর এক পরিকল্পনা নিয়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তিনি দেশকে শুধু খাদ্যের স্বয়ং সম্পূর্ণ করেননি। কৃষি খাতকে একটি সমৃদ্ধ খাতে পরিণত করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের রোপণ করা বীজের সুফল এখনো দেশের মানুষ ভোগ করছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের শাসন আমলে দেশের কৃষিখাত মারাত্মক বিপর্যস্ত। সার, বীজ, ডিজেল, বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির কারণে আজ কৃষক দিশেহারা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পরও পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না তারা। নামে মাত্র ভর্তুকি দেয়া হলেও সেটি চলে যাচ্ছে সরকার দলের লোকদের পকেটে। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারাত্মক ক্ষতির শিকার। কৃষকরা পাচ্ছে না সরকারি প্রণোদনা। নামেমাত্র প্রণোদনা দেয়া হলেও তা সরকার দলের নেতা-কর্মীরা লোপাট করছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ঘরানার বিশেষ গোষ্ঠী ছাড়া জনগণ বিশ্বাস করে সংকট উত্তরণের একমাত্র কান্ডারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ছাত্র যুবকরা বিশ্বাস করে দেশের বর্তমান অবস্থার থেকে পরিবর্তন ঘটিয়ে অপর সম্ভাবনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারেন তারেক রহমান। এ জন্য তাদেরকে নিয়ে সরকারের যত ঘৃণ ষড়যন্ত্র। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কৃষকদের সকল সংকটে তাদের পাশে থাকার পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত দাবিতে রাজপথে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তৃতায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের পেছনে মূল ভিত্তি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। বর্তমান সরকার যতই বলুক দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। এতে তাদের সামান্যতম অবদান নেই। কৃষিই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের মুক্তি না আসলে অর্থনীতির মুক্তি আসবে না। এটা জেনে জিয়াউর রহমান কৃষি ব্যবস্থার বিপ্লব ঘটানোর মধ্য দিয়ে দেশে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর-উন-নবী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা, জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন বাবলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী, প্রচার সম্পাদক মশিয়ার রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, কৃষকদল নেতা ফুল মিয়া, মিজানুর রহমান, আবু শামাহ, সাখাওয়াত হোসেন, শওকত আলী, মশিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ। মাঝে শাক-সবজির বীজ ও গাছের চারা বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন শিকদার এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন।

ভাগ