সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালে একাধিক বেড়িবাঁধ দিয়ে রাখায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন সদর উপজেলার চার ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ। বর্ষা মৌসুম নয়, শুকনো মৌসুমে খাল খননের দাবি ভুক্তভোগী এসব মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতায় খাল খনননের নামে খালে বাঁধ দেয়ার ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপ নিতে যাচ্ছে চারটি ইউনিয়ন। শনিবার সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজের সামনে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ প্রাণসায়ের খালের বেড়িবাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে লাবসা ইউপি মেম্বর গোলাম কিবরিয়া বাবু, বল্লী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, লাবসা ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাপ্পী, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম, ইউপি মেম্বর মনিরুল ইসলাম মনি, ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, আবুল বাসার সহ চার ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রাণসায়ের খাল খননের আগেই খালে বেড়িবাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙ্গা ও আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের লক্ষাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, মৎস্য ঘের, পুকুর, বিল পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি রাখার কোনো জায়গা নেই। পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা রাস্তা। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চার ইউনিয়নের প্রায় সকল মানুষ। মানবেতর জীবন যাপন করছে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষেরা। এছাড়াও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকাসহ পৌর কয়েকটি নিম্ন অঞ্চল। বর্ষা মৌসুমে খাল খননের নামে প্রাণসায়ের খালে বেড়িবাঁধ দেওয়ায় ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক গ্রামের মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। প্রাণসায়ের খাল বেড়িবাঁধ অপসারণ হলে এসব ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা থাকবে না। অনতিবিলম্বে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর কছে প্রাণসায়ের খালের ওপর দেওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত অপসারণের জোর দাবি জানান মানববন্ধন থেকে এসব ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষ।





