জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে ভাসেন মোরেলগঞ্জের বহরবুনিয়াবাসী : ইউনিয়নে নেই কোনো বেড়িবাঁধ

আলী আকবর টুটুল,বাগেরহাট ॥ ‘আমরা বিচ্ছিন্ন একটি এলাকায় বসবাস করি। রাস্তা-ঘাট নেই। ভালো স্কুল কলেজ নেই। নেই হাসপাতাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারের জন্য আধুনিক মার্কেট। এরপরেও বাপ দাদা এখানে বসবাস করেছেন তাই আমরাও আছি। তবে এই ইউনিয়নের মানুষদের রার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করা হলে একসময় ইউনিয়ন ছেড়ে বেশিরভাগ মানুষ অন্যত্র পাড়ি জমাবেন। এমনই অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ শিকদার। বহরবুনিয়া বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত একটি ইউনিয়ন। পানগুছি ও কেওড়া নদী সংলগ্ন লোকালয়ে এই ইউনিয়নের অবস্থান। ইউনিয়নে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে ৬৭টি ছোটবড় খাল। কিন্তু দুর্ভোগের শেষ নেই বহরবুনিয়াবাসীর। নদী বেস্টিত ইউনিয়ন হওয়া স্বত্ত্বেও ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণ পানির প্রবেশ ঠেকাতে এই ইউনিয়নের জন্য নেই কোন বেড়িবাঁধ। যার ফলে জোয়ার-ভাটার সাথে তাল মিলিয়ে বেঁচে থাকতে হয় ইউনিয়নবাসীকে। প্রতিবছর কয়েকবার জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানিতে ভাসেন স্থানীয়রা। জোয়ারের পানি একটু বেশি হলেই রাস্তাঘাট, বাজার ও বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায় বহরবুনিয়াবাসীর। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বার বার আবেদন করলেও কোনো উপকার হয়নি এদের। বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ঔষধ ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, আমরা দেশের একটি দীপ ইউনিয়নে বসবাস করি। এই ইউনিয়নের চারপাশেই নদী। নদীর পানি থেকে রার জন্য আমাদের ইউনিয়নে কোন বেড়িবাঁধ নেই। ইউনিয়ন থেকে কোথাও যেতে হলে নৌকা বা ট্রলারই একমাত্র ভরসা। ইউনিয়নের অভ্যন্তরের রাস্তাঘাটও অনেক খারাপ। বহরবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন হোসেন বলেন, যুগযুগ ধরে জোয়ার-ভাটার সাথে তাল মিলিয়ে জীবন চলছে আমাদের। উপজেলা ও জেলা শহরের সাথে যোগযোগের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার ও নৌকা। অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসার জন্য নিতে হয় উপজেলা বা জেলা সদরের হাসপাতালে। মুমূর্ষু রোগীদের েেত্র অনেক ঝুঁকিতে নিয়ে যেতে হয়। তারপরও ঘটে মৃত্যুর ঘটনা। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, ৩৫/২ পোল্ডারের আওতায় মোরেলগঞ্জের সন্নাসী থেকে রামপাল হয়ে মোংলার জয়মনির ঘোল পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করি প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটবে বলে দাবি করেন তিনি।

ভাগ