শিমুল হাসান. লোহাগড়া (নড়াইল) ॥ লোহাগড়ার কলেজ ছাত্র রেদওয়ান মাহফুজের (২৩) কথিত সেই বিয়ের কাবিনে উল্লিখিত ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও কাজী ওই কাবিন ভুয়া মর্মে লিখিত দিয়েছেন। এ নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও কাজী সূত্রে জানা গেছে, ইতনা ইউনিয়নের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও কাজী মোহাম্মাদ রুহুল্লাহ লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বিয়ের কাবিনে উল্লেখ করা হয়েছে গত বছর ২৯ নভেম্বর আমার কার্যালয়ে রেদওয়ান মাহফুজ ও তিশা আক্তারের বিবাহ রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। যার ক্রমিক নম্বর দেখানো হয়েছে ৪৯, রেজিস্ট্রি নং-৪৯, বই নং-এ/০৫, পৃষ্ঠা নং-২০। কাজী মোহাম্মাদ রুহুল্লাহ বলেছেন , প্রকৃতপক্ষে আমার কার্যালয়ে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়নি। আমি বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানি না। কাবিনে উল্লিখিত সিল ও সই আমার নয়। ওই কাবিন ভুয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগে জানা গেছে, ইতনা ইউনিয়নের কুমারডাঙ্গা গ্রামের ইজাবুল শেখের ছেলে রেদওয়ান মাহফুজ লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের অনার্স(রাষ্ট্রবিজ্ঞান)শেষ বর্ষের ছাত্র। ২০১৭ সালে মোবাইল ফোনে কুন্দসী এলাকার তিশা আক্তার(২২) নামে একটি মেয়ের সাথে পরিচয় হয় রেদওয়ান মাহফুজের। রেদওয়ান মাহফুজ প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পিছু ছাড়েনি ওই মেয়েসহ তার আত্মীয় স্বজন। ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে ওই মেয়ে পুনরায় রেদওয়ান মাহফুজকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। দুই পরিবার বিষয়টির সমাধান করতে চাইলে মেয়ের পরিবার ও আত্মীয় স্বজন ১০ লাখ টাকা দাবি করে বসেন। পরবর্তীতে গত বছর ২৯ নভেম্বর ওই মেয়ের লোহাগড়া বাজারস্থ এক আত্মীয়র বাসায় মীমাংসার জন্য বসা হয়। কিন্তু মেয়ে পক্ষের লোকজন সেখানে জোর করে বিয়ের কাবিননামা ফরমে রেদওয়ান মাহফুজ এবং এক শ টাকার পাঁচটি ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে রেদওয়ান মাহফুজের বাবার স্বাক্ষর নেয়। সেই কাবিননামা নিয়ে ওই মেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর রেদওয়ান মাহফুজের বাড়িতে গিয়ে ওঠে। রেদওয়ান মাহফুজের বাবা লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই মেয়েকে উদ্ধার করে মেয়ের পরিবারের কাছে সোপর্দ করে। কলেজছাত্রের বাবা ইজাবুল শেখ বলেন, আমার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। মেয়ে পক্ষের লোকজন লাখ লাখ টাকা দাবি করছে। বক্তব্য নিতে কুন্দসী এলাকার তিশা আক্তারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্মক (তদন্ত) মো. ফিরোজ বলেন, বিষয়টির সমাধান করতে দুই পরিবারকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এখনো সমাধান হয়নি।




