ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ফুলতলা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তাকে বদলি

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনার ফুলতলা উপজেলা কৃষি ব্যাংক শাখার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আমিনুল ইসলামকে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুঘ গ্রহণের অভিযোগে বদলি করা হয়েছে। রবিবার তাকে তড়িঘড়ি করে সাতীরায় বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।  বিষয়টি নিশ্চিত করে কৃষি ব্যাংক খুলনা বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক শফিউল আজম বলেন, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। প্রমাণ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের লোন গ্রহীতা মোফাজ্জেল গাজীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন ফুলতলা কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। ঘুষ গ্রহণের ওই দৃশ্য কৌশলে ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ হয়। তিনি বিষয়টি স্বীকারও করেন। এ বিষয়ে ওই গ্রাহক ব্যাংক কর্তৃপরে কাছে আমিনুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ব্যাংকের খুলনা বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক শফিউল আজম নিজেই তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী শেখ ইউনুস আলী জানান, ঘুস লেনদেনের ভিডিওতে আমিনুলের নিজের স্বীকারক্তি রয়েছে তিনি ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন, এর পরেও কি এমন তদন্ত প্রয়োজন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, কৃষি ব্যাংক ফুললতলা শাখায় লোন নিতে গেলে ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তাকে ঘুস দিতে হয়। বর্তমান ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান ২০১৮ সালে যোগদানের পর থেকেই এ ব্যাংকে অনিয়মের চিত্র বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের সাথে অশোভনীয় আচরণ এবং সেবা প্রদানে বিলম্ব করা হয়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও ম্যানেজার মুস্তাফিজুরের সাথে যোগসাজশ করে ব্যাংকে এই অনিয়ম চলে আসছে। শাহরিয়া খান শান্ত নামে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, লোন নিতে গেলে আমিনুলকে ঘুস দেওয়া লাগে। ঘুস দিতে না পারলে লোন পাশ হয় না। তিনিসহ গ্রামের অনেকেই লোন পেতে তাকে ঘুস দিতে বাধ্য হয়েছেন। গিলাতলার বাসিন্দা ফরহাদ নামে অপর গ্রাহক অভিযোগ করেন, লোনের বিষয়ে ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে গেলে তাকে অপমান করে বের করে দেয়া হয়। ঘুস দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে এ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। ফরহাদের অভিযোগ, সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও ঘুস দিতে না পারায় লোনের মুখ দেখতে পারছে না তার মত অসংখ্য গ্রাহক। আর যারা গোপনে ঘুসের টাকা দিতে পারছেন, শুধু তাদেরই লোন পাশ হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ গ্রাহকরা মুস্তাফিজুর বা আমিনুল ইসলামের মত কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভাগ