মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি রোধে জেলা প্রশাসন বৈঠক করলেও যশোর শহরের বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর অভিযান না হওয়ার সুযোগে অতি মুনাফালোভী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মত দামে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল বুধবারও যশোরের বড় বাজারে প্রকার ভেদে পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
গত সোমবার ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। আর এই ঘোষণার পরদিনই মঙ্গলবার যশোরের বাজারে পেঁয়াজ এক লাফে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে যায়। অর্থাৎ দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকার স্থলে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ও ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫ টাকার স্থলে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বড় বাজারের আড়ৎ ব্যবসায়ীদের কাছে বিভিন্ন মোকাম থেকে আগে থেকে কেনা কম দামের পেঁয়াজ ছিলো। সেই পেঁয়াজই তারা বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে রাতারাতি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু যশোরের বাজারের অসাধু পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের রুখতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ও অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিবের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে। এই বৈঠকের পরদিনও বুধবার যশোরের বাজারে পেঁয়াজ প্রকার ভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ যশোরের জেলা প্রশাসকের দফতরে যেদিন বৈঠক হয় সেদিন জেলার শার্শার বেনাপোল বাজার, ঝিকরগাছা ও অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজারে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে যশোর শহরে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ভোক্তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বড় বাজারের অভিযান পরিচালিত নয় কেন এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেছেন মজার কথা ! তিনি বলেন ‘আমরা ধীরগতি নীতিতে চলছি। কারণ, দাম যা বাড়ার তা তো বেড়ে গেছে। এর চেয়ে আর যেন আর না বাড়ে সেই বিষয়ে দৃষ্টি রাখছি। পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা খোঁজ রাখছে।’ তিনি বলেন, ‘মনিরামপুরসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান হয়েছে। মূলত আমরা ঝিঁকে (আশাপাশের এলাকা) মেরে বউকে (বড় বাজার) শাসন করার চেষ্টা করছি। তারপরও যশোরের বাজারে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে যে কোন সময়, আপনারা তা দেখতে পাবেন।’ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব এ বিষয়ে বলেন, যেহেতু গত মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছে। ব্যবসায়ীরা তাদেরকে জানিয়েছেন, মোকাম থেকে প্রতিমণ পেঁয়াজ ৩২শ টাকা দরে কিনেছেন। সেই কারণে পরদিনই বড় বাজারে অভিযান চালানো সমীচীন মনে করেননি। তবে যশোরের বাজারের পেঁয়াজের ব্যাপারে তারা খোঁজ রাখছেন। পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ অথবা কাল অবশ্যই অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, বুধবার দুপুরে মনিরামপুরের রাজগঞ্জ বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে অভিযান ছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে দুজন ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।





