চীনের ওপর চাপ বাড়াতে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লোকসমাজ ডেস্ক॥ মাইন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনসহ সাতটি বড় ধরণের অস্ত্র ব্যবস্থা তাইওয়ানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় সঙ্গে সম্পর্কিত চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চাইছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সতর্ক থেকে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বশাসিত দ্বীপটির কাছে এক সঙ্গে সাতটি অস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির নজির বিরল। তবে এই বছর চীনের ওপর আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, বাণিজ্য যুদ্ধ আর করোনা ভাইরাস ছড়ানো নিয়ে অভিযোগের কারণে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
একই সময়ে অস্ত্র কেনার আকাঙ্ক্ষাও বেড়েছে তাইওয়ানের। এবছরের জানুয়ারিতে অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট তাসাই ইং- ওয়েন পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরালো করাকেই শীর্ষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। চীনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর আঞ্চলিক ইস্যু তাইওয়ান। অঞ্চলটিকে নিজেদের প্রদেশ বিবেচনা করে বেইজিং। ট্রাম্প প্রশাসন অঞ্চলটির প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দায় সরব হয়েছে চীন। চীনা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা ভারসাম্য তৈরিতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। বেইজিংয়ের সেনাবাহিনী অঞ্চলটির প্রতি ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে উঠলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ‘তাইওয়ানকে দুর্গ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তাইওয়ানের সেনাবাহিনী মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে বহু দিক থেকে সামরিক ক্ষমতায় এগিয়ে চীন। ক্রমাগত নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে তারা। এরই মধ্যে নতুন সাতটি অস্ত্র ব্যবস্থা তাইওয়ানের কাছে বিক্রি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহেড মার্টিন, বোয়িং, জেনারেল অ্যাটোমিকস এসব অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করছে। এসব প্রক্রিয়ায় যুক্ত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই পরিকল্পনা কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি শিল্পসূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ নিয়ে এসপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এই প্যাকেজের কোনও কোনও অস্ত্র কিনতে প্রায় এক বছর আগে অনুরোধ করে তাইওয়ান। তবে সেগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া শুধু এখন শুরু হচ্ছে।

ভাগ