চৌগাছার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নিম্ন মাধ্যমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও পাননি প্রণোদনার টাকা। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের এই প্রণোদনা পাওয়ার কথা। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সারা দেশের মত যশোরের সকল উপজেলার শিক্ষকরা সেই প্রণোদনা পেলেও বঞ্চিত চৌগাছার শিক্ষকরা। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রণোদনার অর্থ পেতে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
করোনা ভাইরাসের কারণে স্কুল, কলেজ, মাদ্রসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী একটি প্রণোদনা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ননএমপিও শিক্ষক ৫ হাজার আর কর্মচারীরা পাবেন আড়াই হাজার টাকা। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে তাদের হাতে এই টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা। যশোরের সকল উপজেলার শিক্ষক-কর্মচারী এই প্রণোদনার টাকা পেলেও বঞ্চিত চৌগাছার ১৭৯ জন শিক্ষক ও ৬৭ জন কর্মচারী। কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে শার্শা উপজেলার শিক্ষক-কর্মচারীদের নামে দুইবার প্রণোদনার টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। সে কারণে টাকা থেকে বঞ্চিত চৌগাছা উপজেলার শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে চৌগাছার শিক্ষক-কর্মচারীরা একাধিকবার চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় একাধিকবার ধর্ণা দিয়েও কোন ফল পাননি। অবশেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার বিকেএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফুজ্জামান খানের নেতেৃত্বে শিক্ষক প্রতিনিধিগণ যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন। শিক্ষকদের বিশ^াস তারা অতি দ্রুতই প্রণোদনার টাকা হাতে পাবেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শরীফুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক সকল শিক্ষক-কর্মচারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। আমরা যতটুকু জেনেছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে শার্শা উপজেলার শিক্ষক-কর্মচারীদের নামে দুইবার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ফলে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। করোনায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর দিন পার করছি। আমরা আশা করছি কর্তৃপক্ষ ভুল সংশোধন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ আমাদেরকে বুঝে দেবেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামান বলেন, একটি সমস্যার কারণে ওই বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে তাদের প্রণোদনার টাকা দ্রুত পান আমরা সে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

ভাগ