প্রেস ক্লাব দখল করে কমিটি: অবৈধ ঘোষণা করলেন আদালত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ জিএম নুর ইসলাম ও মোজাফ্ফর রহমানের নেতৃত্বাধীন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন সাতক্ষীরার সহকারী জজ আদালত। বৃহস্পতিবার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ নাছির উদ্দিন ফরাজি এ রায় দেন। সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপির দায়ের করা মামলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের শুনানির পর এই রায় দেন আদালত। আদেশে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রেস ক্লাবের আর্থিকসহ সব দায়দায়িত্ব আবু আহমেদ ও মমতাজ আহমেদ বাপীর নেতৃত্বাধীন কমিটির কাছে হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারির পর থেকে এই রায় ঘোষণা পর্যন্ত সব ধরনের অনিয়মিত আর্থিক লেনদেনের জন্য জিএম নুর ইসলাম ও মোজাফ্ফর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি দায়ী থাকবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের এক মাসের মধ্যে গত ৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভায় অনুমোদিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যকরী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ লক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র বিক্রির আগেই ২২ জানুয়ারি জিএম নুর ইসলাম ও মোজাফ্ফর রহমানের নেতৃত্ব সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখল করা হয়। তারা কোনোরকম বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ আবু আহমেদসহ অন্যান্যরা বাদী হয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বাদী পক্ষের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনে আদালত এই রায় দিলেন।
রায়ে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং সেই হিসেবে দেশের সব স্তরের কমিটি বা নেতারা অবশ্যই গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত হতে হবে। এটাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধানের স্পিরিট। একটি কল্যাণকর ও প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে কতিপয় সদস্য কর্তৃক কোনও আইনগত প্রক্রিয়া ব্যতীত কোনও নির্বাচিত কমিটিকে দখলচ্যুত করা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখনোর সমান বিবেচিত হয়, যা বেআইনি এবং আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদ মাধ্যম ফোর্থ স্টেট হিসেবে পরিচিত হয়। আর ওই সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের দ্বারা এরকম অগণতান্ত্রিক বেআইনি কাজ রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে না। নির্বাচিত কমিটি কোনও অন্যাই বা অনিয়ম করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা সুরাহা করার জন্য আদালতসহ বিভিন্ন ফোরাম রয়েছে। কিন্তু তার শরণাপন্ন না হয়ে বিবাদীপক্ষ বাদীপক্ষের মেয়াদ উত্তীর্ণের আগেই দখলচ্যুত করে নিজেরা কমিটি ঘোষণা করায় তাদের ওই কাজ শুরুই থেকেই বাতিল বলে আদালতের কাছে প্রতিয়মান হয়। ফলে একটি বাতিল কমিটি দ্বারা স্থানীয় প্রেসক্লাবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তাই অবিলম্বে সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটির কাছে প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণসহ দায়িত্ব হস্তান্তর প্রয়োজন বলে এই আদালতের কাছে প্রতিয়মান হয়।’

ভাগ