‘গ্রাহকদের কোন সংকটের কথা শুনছে না ওজোপাডিকো’

খুলনা সংবাদদাতা॥ গ্রাহকদের কোন সংকটের কথা শুনছে না ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষ। দিনে দিনে বাড়ছে নানা অসংগতি। রোধ করতে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষের নেই কোনও উদ্যোগ। এভাবে চলতে থাকলে কোম্পানির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে গ্রাহকরা। বাড়তে পারে নানা সংকট। এতে করে বিদ্যুতের উপর সরকারের দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি বিঘ্নিত হতে পারে।
প্রি পেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে ‘প্রি পেইড মিটারের দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম রোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় নাগরিক নেতারা এ সব কথা বলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিএমএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক ও বিএমএ’র সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম। সভায় পর্যায়ক্রমে মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময়, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকদের সঙ্গে মতবিনিময়, ওয়ার্ডগুলোতে মতবিনিময়, গণ-স্বাক্ষর, গণ-শুনানি, মোমবাতি মিছিলসহ ঘেরাও কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত হয়।
সংগঠনের আহবায়ক ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ওজোপাডিকোর সঙ্গে আমাদের সংকটের কথা অনেকবার বলা হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের মধ্যস্থতায় সিদ্ধান্ত হয় ওজোপাডিকোর কর্তৃপক্ষ মিলে যে অসংগতিগুলো রয়েছে তা দুই পক্ষকে বসে নিরসন করতে হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা করলো না কর্তৃপক্ষ। বরং তাদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে চলছে। আসছে নানা অভিযোগ। কিন্তু এসব নিরসনে নেই কোনও উদ্যোগ। তাই এই আন্দোলন চালাতে নিতে হবে কর্মসূচি। তেল-গ্যাস জাতীয় কমিটির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বলেন, সিস্টেম লস কমানো এবং আর্থিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেক্টরকে আরও জবাবদিহি এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে ওঠার কথা থাকলেও তা আজ জবাবদিহি এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমান প্রি পেইড মিটারে রয়েছে অনেক অস্বচ্ছতা, যা নাগরিকদের মনে দুর্নীতির সন্দেহ সৃষ্টি করছে। রেগুলেটারি কমিশনের গণ-শুনানি রাজধানীতে না হয়ে খুলনায় হওয়া প্রয়োজন। গ্রাহকদের উপস্থিতির স্বার্থে খুলনায় গণ-শুনানি করার আহ্বান জানান।
সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, যুগ্ম সদস্য সচিব শাহ মামুনুর রহমান তুহিন, নাগরিক সমাজের আহ্বায়ন অ্যাডভোকেট আফম মহসীন, ন্যাপের জেলা সভাপতি মো. ফজলুর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদকএস এম ফারুক-উল ইসলাম, জাসদের মহানগর কমিটির সভাপতি খালিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান মন্টু, সিপিবি জেলা কমিটির নেতা মিজানুর রহমান বাবু, বাগেরহাটের অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের এফ এম ইকবাল, মাসাসের কৃষ্ণা দাস, সাংস্কৃতিক কর্মী নূরুন নাহার হীরা, সাংবাদিক এ এম রাশীদুল আহসান বাবলু, ওয়াহিদুজ্জামান সোহাগ, জাতীয় স্বোচ্ছাসেবক পার্টির মহানগর আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সেফের সমন্বয়কারী মো. আসাদুজ্জামান, সাংবাদিক হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, মো. মিজানুর রশীদ, সঞ্জয় কুমার মল্লিক, উন্নয়ন ফোরামের ডা. শেখ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, সম্মিলিত লেখক ফোরামের রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সরকার প্রধান যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বারবার ঘোষণার কথা উচ্চারণ করছে ঠিক তখনই ২১ জেলা নিয়ে গঠিত ওজোপাডিকো গ্রাহকদের জোর করে প্রি-পেইড মিটার চাপিয়ে দিয়ে নানা দুর্নীতির মাধ্যমে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করে চলেছে। ওজোপাডিকো এতোটাই বেপরোয়া যে, নাগরিকদের কোনও কথায় তারা কর্ণপাত করছে না। বক্তারা আরও বলেন, প্রি পেইড মিটার রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গে রিচার্জের টাকা ও বিভিন্ন খাতে কেটে নেওয়া টাকার মধ্যেও ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। ওজোপাডিকোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতোটাই বেপরোয়া যে, গ্রাহকরা এ বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা চাইলে তারা উত্তেজিত হন এবং অনীহা প্রকাশ করেন। গ্রাহকরা সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, ওজোপাডিকোর ব্যবহৃত সফটওয়্যার এমনভাবে তৈরি যা গ্রাহকের রিচার্জের টাকা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে ত্রুটিযুক্ত ও দুর্নীতিগ্রস্থ।

ভাগ