খড়কিতে ফের কুখ্যাত ডিকু বাহিনীর সন্ত্রাস, আহত তিন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের খড়কিতে গত মঙ্গলবার রাতে ফের কুখ্যাত ডিকু বাহিনী স্থানীয় শান্তিপ্রিয় লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন। খড়কি পীরপাড়া এলাকার আবুল গাজীর ছেলে শফিকুল ইসলাম জানান, তারা কেউ পাইপমিস্ত্রি আবার কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু তারা শান্তিতে নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকার ডিকু বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। কারণে অকারণে তাদের মারধর করা হয়। তিনি বলেন, মঞ্জুরুল নামে ডিকু বাহিনীর এক সদস্য সম্প্রতি এলাকার এক ব্যক্তির একটি হাঁস চুরি করে। এর আগেও সে আরেক ব্যক্তির দুটি হাঁস চুরি করেছিল। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে তারা মঞ্জুরুলকে হাঁস চুরির ঘটনা জানতে ধরে নিয়ে আসেন। কিন্তু এ ঘটনা জানতে পেরে ডিকুর ভাই জিসান, আব্দুল জলিলের ছেলে শামীম, মাজেদের ছেলে সাকলাইন, একই এলাকার মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আচমকা এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা এ সময় তাকেসহ (শফিকুল), রাজমিস্ত্রি সাইফুল ও পাইপমিস্ত্রি সলেমানকে বেধড়ক মারধর করে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে আসেন পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সুকুমার কুন্ডুসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। পুলিশের সাথে ডিকুর বোন রেহানাও ছিলেন। তারা ধারণা করছেন, রেহানা পুলিশকে খবর দিয়ে এনেছেন স্থানীয় লোকজনকে শায়েস্তা করতে। তিনি আরও বলেন, এসআই সুকুমার কুন্ডু সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে এলাকার নারীদের গালিগালাজ করেন। তবে এ সময় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা হাঁস চোর মঞ্জুরুলকে পরিবার পরিজনসহ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করে। এ ব্যাপারে এসআই সুকুমার কুন্ডু জানান, রেহেনার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। রেহেনা তাকে ফোন দেননি। তার সাথেও ছিলেন না। তবে তিনি এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরে কোতয়ালি থানা পুলিশের দুটি টিম সেখানে যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, হাঁস চুরির অভিযোগ এনে সজীব নামে এক যুবক মঞ্জুরুলকে মারধর করেছেন। তাছাড়া এলাকার লোকজনও মঞ্জুরুলের ওপর নানা কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ কারণে তিনি স্থানীয় লোকজনকে শান্ত রাখতে মঞ্জুরুলকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এলাকার নারীদের গালিগালাজ করার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্য নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকার কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেননি। উল্লেখ্য, এর আগেও কুখ্যাত ডিকু বাহিনী এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এই বাহিনীর অত্যাচারে লোকজন অতিষ্ঠ। কিন্তু পুলিশ ডিকু বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভতাপ বিরাজ করছে।

ভাগ