লোকসমাজ ডেস্ক॥ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশকাণ্ডের ঠিকাদার শাহাদত হোসেনকে নিম্ন আদালতের দেয়া জামিন বাতিল করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। জামিন বাতিল করার আবেদন করার কথা বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ খান। আইনজীবী খুরশীদ খান জানান, ২৭ আগস্ট পাবনার আদালত ঠিকাদার শাহাদতকে জামিন দিয়েছেন। ওই রাতেই শাহাদত গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এ জামিনাদেশের বিরুদ্ধে ‘রিভিশন’ করে তার জামিন বাতিল করার আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আশা করা যায় আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এটি উপস্থাপন হবে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পাবনার এ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক পাবনা কার্যালয়ও আলাদা দুটি মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় অভিযোগ করা হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহে অস্বাভাবিক দর দিয়ে তারা প্রায় ১৬ কোটি টাকা তছরুপ করেছে। মামলাটি তদন্ত করছে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়। দুদক পাবনা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শাহাদতের আইনজীবীগণ পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তার জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ মকবুল আহসান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। ওইদিনই তড়িঘড়ি করে জামিনের আদেশ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠালে রাতেই কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি ছাড়া পান।
উল্লেখ্য, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য একটি বালিশ ক্রয় করতে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ফ্ল্যাটে তুলতে আরও ৭৬০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এ ছাড়া প্রতিটি চুলা ক্রয় করতে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা এবং তা ফ্ল্যাটে তুলতে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। একটি ইস্তিরি ক্রয় করার জন্য ৪ হাজার ১৪৫ টাকা এবং তা তুলতে ব্যয় দেখানো হয় ২ হাজার ৯৪৫ টাকা। এভাবে রূপপুর প্রকল্পে কেনাকাটায় পুকুর চুরির সংবাদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে দুদক তদন্তে নামে। এসব ঘটনায় ১৩ জন প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে দুদক।





