লোকসমাজ ডেস্ক॥ তারা ছিলেন তিন কন্যা। ভেরোনিকা সেপকালো, সভেতলানা টিকানোভস্কায়া ও মারিয়া কোলেসনিকোভা। এই তিন কন্যা একজোট হয়েছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে। কিন্তু আগস্টে ব্যাপক জালিয়াতির মধ্য দিয়ে সেই নির্বাচন হয়। এতে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো শতকরা ৮০ ভাগের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ সভেতলানা টিকানোভস্কায়া পান শতকরা মাত্র ১০ ভাগের কিছু বেশি ভোট। ফলে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা দিয়ে তারা এ ফলকে প্রত্যাখ্যান করেন। শুরু হয় আন্দোলন।
এরই এক পর্যায়ে দেশ ছেড়ে যান ভেরোনিকা সেপকালো এবং সলেতলানা টিকানোভস্কায়া। দেশে থেকে যান তৃতীয় কন্যা মারিয়া কোলেসনিকোভা। তার নেতৃত্বে আন্দোলন জোরালো হতে থাকে। সোমবার খবর পাওয়া যায় তাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা র্যালির পরে রোববার অপহরণ করেছে। অসমর্থিত সূত্র থেকে খবর পাওয়া যায় তিনি পালিয়ে ইউক্রেনে চলে গেছেন। কিন্তু বেলারুশ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দাবি করেছে ইউক্রেন পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে যে রোববার সরকারি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাকে অপহরণ করে। পরে তার ইউক্রেন পালিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে দেয় এবং সোমবার তাদের দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তাকে গ্রেপ্তারের খবর চাউর করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য, বিরোধী দলীয় নেতা ভ্যালেরি সেপকালোর স্ত্রী ভেরোনিকা সেপকালো। ভ্যালেরি সেপকালোকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েন তার স্ত্রী ভেরোনিকা। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে গ্রেপ্তার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন ভেরোনিকা সেপকালো এবং টিকানোভস্কায়া। অন্যদিকে দেশেই অবস্থান করছিলেন মারিয়া কোলেসনিকোভা।
অনলাইন সিবিএস বলছে, বেলারুশ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দাবি করেছে, সীমান্ত অতিক্রম করে ইউক্রেন যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কোলেসনিকোভা। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগের দিন তিনি অপহৃত হন বলে খবর পাওয়া যায়। তাকে কোথায় রাখা হয়েছে এ বিষয়ে বেলারুশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে ইউরোপীয়ান দেশগুলো। তবে রাজধানী মিনস্কের কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দেন কোলেসনিকোভা কোথায় আছেন সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তবে বেলারুশ স্টেট বর্ডার কমিটির এক মুখপাত্র দাবি করেন, বিরোধীদের কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের অন্য দু’জন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাতের বেলা সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা দু’পুরুষ সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অপজিশন কাউন্সিলের সদস্যরা সরকারের ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করেন। সোমবার সকালে নিখোঁজ হয়ে যান কোলেসনিকোভা ও কাউন্সিলের অন্য দু’সদস্য- প্রেস সেক্রেটারি অ্যান্টন রোডনেনকোভ এবং নির্বাহী সম্পাদক ইভান ক্রাভস্তোভ। বিরোধীদের কাউন্সিল থেকে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কোলেসনিকোভাকে পাঁজাকোলা করে একটি মিনিবাসে তুলে নিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এরপর অপহৃত ওই তিনজনের কারো সঙ্গে কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।





