বার্সায় মেসির থেকে যাওয়ায় আসলে কী হবে?

লোকসমাজ ডেস্ক॥ শুক্রবার গোল ডটকমকে দেওয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি বার্সেলোনায় আরেকটি মৌসুম থেকে যাওয়ার কথা বলেছেন। পুরোনা চুক্তির শর্তে আটকে তাকে ন্যু ক্যাম্পে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত থাকতেই হচ্ছে। অথচ ২৫ আগস্ট ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে মেসি বার্সেলোনা থেকে বিদায় চাওয়ার পর প্রায় গোটা ফুটবল পৃথিবীই ধরে নিয়েছিল, মেসি তার ২০ বছরের ক্লাবটিতে আর নেই! মেসির এই থেকে যাওয়াটা অনেকের চোখেই বিশাল এক ‘ইউটার্ন’, কারো কাছে ‘নিজের কথা গিলতে বাধ্য হওয়া’, কারো দৃষ্টিতে ‘নিজেকে হাস্যকর করে তোলা’, কারো কারো কাছে ‘ব্যক্তিগত পরাজয়’। অনেকের এই সিদ্ধান্তকে দেখেন ‘ইচ্ছের বিরুদ্ধে থেকে যেতে বাধ্য হওয়া’। শুক্রবার থেকে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মেসি কিন্তু শনিবারই বার্সেলোনার অনুশীলনে নামেননি। নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যান যথারীতি অনুশীলন তত্ত্বাবধান করেছেন, কিন্তু মেসি আসেননি। একটু দেরি হলেও না এসে পারবেন না, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে সোমবারই তিনি অনুশীলনে যোগ দেবেন, তার আগে পিসিআর টেস্টসহ হবে মেডিকেল। মেসির এই থেকে যাওয়া বার্সেলোনায় এবং তার নিজের ওপরে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সে নিয়ে দৈনিক মার্কার একটি বিশ্লেষণ আছে। সেটি এরকম-
আর্থিক সীমাবদ্ধতা:
করোনাভাইরাসের কারণে ক্লাবের কোষাগারে বেশ ভালোই টান পড়েছে। মেসির পেছনে কম করে হলেও ১০০ মিলিয়ন ইউরো (১০ কোটি) খরচ হবে। তার রিলিজ ক্লজ ৭০ কোটি ইউরো না পাওয়া গেলেও ট্রান্সফার ফি বাবদ বড় একটা অঙ্ক আসতো। এখন সেটি না আসায় এত টাকার সংস্থানের জন্য বার্সেলোনার ভাবনা বেড়ে গেল। আর এতে হলো কি লাওতারো মার্তিনেজ, জর্জিনিয়ো ভাইনালডাম ও মেম্ফিস ডিপাইকে সাইন করানোর ব্যাপারটা আগের চেয়ে অবশ্যই বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বার্সেলোনায় প্রাতিষ্ঠানিক ফাটল:
মেসি থেকে গেলেন। কিন্তু ক্লাবের বড় কর্তাদের দিকে, বিশেষ করে সভাপতি বার্তোমেউয়ের দিকে তোপ ঠিকই দেগেছেন। ‘সত্যটা হলো, এখানে বহুদিন ধরেই কোনও কর্মপরিকল্পনা নেই, কিছু নেই। সময় চলে গেলে তারা নড়েচড়ে বসার চেষ্টা করে এবং ফাটল ঢাকতে চায়’- গোল ডটকমকে বলেছেন তিনি। বার্তোমেউয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কটা আরও ছিন্নভিন্ন হয়েছে এবং কোনও সন্দেহ নেই যে মার্চের নির্বাচন নিয়ে আরও বেশি মানুষ আগ্রহী হয়েছে।
বিভক্ত সমর্থক গোষ্ঠী:
কয়েক সপ্তাহ ধরে ভেতরের অনেক বিষয়ই বাইরে চলে এসেছে। এতে ব্যথাতুর সমর্থকেরাও হয়ে পড়েছে বিভক্ত। মেসির সমালোচকের সংখ্যা বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এখন পারফরম্যান্স একটু খারাপ হলেই বাজে প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যে অভিজ্ঞতা তার আগে কখনও ছিল না। মেসি আগে যেমন ‘অস্পর্শনীয়’ ছিলেন, সেরকমটি আর থাকবেন না। নতুন কোচও ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন, আগের মতো সুবিধাপ্রাপ্ত খেলোয়াড় তিনি আর নন!
ড্রেসিংরুমের পরিবেশ:
অধিনায়ক থেকে যাচ্ছেন, কিন্তু কয়েকজন সহখেলোয়াড় ও কাছের বন্ধুকে তিনি রাখতে পারছেন না। সবার চোখ এখন ‍লুইস সুয়ারেজের ওপর এবং মেসির আরেক ঘনিষ্ঠজন আর্তুরো ভিদালও নিশ্চিত ক্লাব ছাড়ছেন। জর্ডি আলবা ও সের্হিয়ো বুসকেটস সম্ভবত থাকবেন। রোনাল্ড কোম্যানকে কোচ করে আনা হয়েছে তার কঠিন চরিত্রের কারণে, দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি তিনি দেখিয়ে দিতে সময় নেননি। মেসিকেও বার্তা দিয়ে দিয়েছেন প্রথম সাক্ষাতে। কোচ এবং বিশ্বসেরা ১০ নম্বর খেলোয়াড়ের সম্পর্ক কেমন যায় সেটির ওপর বার্সার ২০২০-২১ মৌসুমের অনেক কিছুই নির্ভর করবে।

ভাগ