খুলনা-বেনাপোল ট্রেনে সেই ঠাসাঠাসি!

আকরামুজ্জামান ॥ দীর্ঘ বিরতির পর ফের চালু হয়েছে বেনাপোল-খুলনা রুটের ট্রেন চলাচল। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৫ মাসেরও অধিক সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে সরকারি নির্দেশনায় এ রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল চালু করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে খুলনা থেকে ছেড়ে যায় বেতনা এক্সপ্রেস নামে এ ট্রেনটি। তবে করোনা পরিস্থিতিতে ট্রেনে যাত্রী উঠানামার ক্ষেত্রে কোনো নির্দেশনা নেই রেল কর্তৃপক্ষের। গতানুগতিক নিয়মে আগের মতই ঠাসাঠাসি করে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীরা যাতায়াত করছেন।
যশোর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে গত ২৪ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় বেনাপোল-খুলনা রুটের ট্রেন চলাচল। এরপর গত দেড় মাস ধরে ঢাকার সাথে সীমিত পরিসরে ট্রেন চালু করা হলেও খুলনা-বেনাপোল রুটের ট্রেন বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এরপর রেল কর্তৃপক্ষ দেশের লোকাল রুটের ট্রেন চলাচল চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার থেকে ট্রেনটি ফের চালু করা হয়। তবে ট্রেনটি করোনা বিস্তারের আগে দিনে দুইবার চললেও আপাতত একবার চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে অন্যান্য ট্রেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সিট খালি রেখে যাত্রী তোলার নিয়ম রাখা হলেও এ ক্ষেত্রে তা রাখা হয়নি। যাত্রীদের নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে যশোর রেলস্টেশনে কথা হয় কয়েকজন যাত্রীর সাথে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ট্রেনটি বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ায় মানুষের বেশ সুবিধা হয়েছে। তবে আশঙ্কা রয়েছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে। অন্যান্য ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী উঠা-নামানো করা হলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। যাত্রী তোলা হচ্ছে আগের মতোই। প্রতিটি স্টেশনে যাত্রীরা যে যার মতো উঠে পড়ছেন ট্রেনে। কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। আলিমুজ্জামান নামে একজন যাত্রী বলেন, অন্যান্য ট্রেনে যাত্রী উঠানামার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে যে ভাবে কড়াকড়ি করা হচ্ছে এটিতে তার বিন্দুমাত্র নেই। ট্রেনটি যেহেতু সীমান্ত এলাকা স্পর্শ করে চলাচল করে সে জন্য সতর্কতা বেশি থাকা দরকার। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সে বিষয়ে কোনো তদারকি নেই। বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে ঢাকার সাথে ট্রেন যোগাযোগ সচল করা হলেও খুলনা-বেনাপোলের এ ট্রেনটি বন্ধ রাখা হয়। কারণ ট্রেনটিতে প্রচুর ভীড় হওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটু বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, ‘পূর্বে বেনাপোল-খুলনার মধ্যে বেতনা এক্সপ্রেসটি দিনে দুইবার চলাচল করতো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সীমিত আকারে এখন একবার চলাচল করবে। প্রতিদিন বেলা ১২ টায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসবে আর বিকেল পাঁচটায় বেনাপোল থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হবে। তবে অন্যান্য ট্রেনের মতো সিট খালি রাখা বা যাত্রীর সংখ্যা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ট্রেনে যাত্রীর সংখ্যা নিয়ে আমাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ট্রেনে চলাচলকারীদের অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি স্টেশন থেকে মাইকে এ ধরনের নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হবে’।

ভাগ