তালাকপ্রাপ্ত স্বামী বশিরের অত্যাচারে কলেজ শিক্ষার্থীর পরিবার শঙ্কিত

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেকে চাকরি নেন কলেজছাত্রী হুমায়রা আক্তার নুপুর। চাকরির সুবাদে নিজ এলাকা বাগেরহাট ছেড়ে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বোয়ালিয়া ব্রাঞ্চে দায়িত্ব পালন করতেন হুমায়রা। সেখানে থাকা অবস্থায় ঋণ গ্রহিতা নলছিটি উপজেলার জুরকাঠি গ্রামের লুৎফুন্নেছা বেগমের ছেলে বশির মৃধার দৃষ্টি পড়ে হুমায়রার ওপর। বিষয়টি বুঝতে পেরে অফিসের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নলছিটি উপজেলার বোয়ালিয়া শাখা থেকে বদলি হয়ে বাগেরহাটে চলে আসেন হুমায়রা। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। ব্যাংক হিসাব বন্ধ করতে গেলে হুমায়রাকে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করে আটকে রাখেন বশির মৃধা। জোরপূর্বক বিয়ে করায় হুমায়রা ও তার পরিবার মেনে নিতে পারেননি বশির মৃধাকে। পরবর্তীতে জুরকাঠি থেকে পালিয়ে বাগেরহাট এসে বশিরকে তালাক দেন হুমায়রা। এরপর থেকেই হুমায়রা ও তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি শুরু করেন বশির। হুমায়রাকে এসিড মারার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়রা আক্তার নুপুর।
হুমায়রা আক্তার নুপুর বলেন, ‘২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ব্যাংক হিসাব বন্ধ করতে জুরকাঠি গ্রামের পাশর্^বর্তী বাকেরগঞ্জ ব্যাংকে যাই। সেখান থেকে বশির ও তার আত্মীয়রা আমাকে ধরে নিয়ে যান একটি বাড়িতে। ওই বাড়িতে বসেই রাতে কাজী ডেকে আমাকে বিয়ে করেন। আমি কাবিননামায় স্বাক্ষর করতে রাজি না হলে বশিরসহ তার আত্মীয়রা আমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি জীবন বাঁচাতে কাবিননামায় স্বাক্ষর করি। এই জোরপূর্বক বিয়ে মানতে না পেরে পালিয়ে চলে আসি বাগেরহাটে। ২০২০ সালের ৬ মে আমি কাজী অফিসের মাধ্যমে বশিরকে তালাক দেই। এর পর থেকে বশির আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। আমার নামে চুরির মামলা করেছেন বশির। এছাড়া ২২ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন বশির মৃধা। এছাড়াও নাজমুল হোসাইন বশির মৃধা নামক ফেসবুক আইডি থেকে আমার নামে নানা প্রকার আপত্তিকর কথা লিখে পোস্ট দিয়েছেন। আমি এসব বিষয় উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। বশিরের হাত থেকে আমি মুক্তি চাই। হুমায়রা আক্তার নুপুর আরও বলেন, ‘বশির মৃধা একজন বিবাহিত উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির মানুষ। তার আগের স্ত্রী রয়েছেন। তারপরও শুধুমাত্র খারাপ মনবাসনা পূর্ণ করতে আমাকে জোর করে বিয়ে করেছেন। আমি তার সংসার না করলে আমাকে এসিড মারা এবং পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন বশির। হুমায়রার বাবা মুদি ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির জমাদ্দার বলেন, বশির মৃধা আমাকে ফোনে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। একপর্যায়ে বলেছে, তার বাড়িতে আমার মেয়েকে না পাঠালে আমাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে। বশিরের হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্ত বশির মৃধা বলেন, হুমায়রার সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরে সে আমার বাড়ি থেকে চলে গেছে। আমি শুনেছি, আমাকে সে তালাক দিয়েছে। তার কাছে আমার কিছু পাওনা রয়েছে, সে জন্য আমি চুরির মামলা করেছি।

ভাগ