স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ২৪ ঘন্টায় গলায় ফাঁস দিয়ে ও কীটনাশক পানে ৩ নারীসহ ৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। সাংসারিক গোলযোগে, প্রেমে ব্যর্থতা ও মানসিক সমস্যার কারণে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাসেল হালদার (১৭) নামে এক যুবক কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছেন। রাসেল হালদার সদর উপজেলার তোলাগোলদারপাড়ার খোকন হালদারের পুত্র। পিতা খোকন হালদার জানিয়েছেন, রাজারহাট বাজার এলাকার এক মেয়ের সাথে রাসেল হালদারের প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অমত করা হয়। তখন রাসেল হালদার মনের দুঃখে কীটনাশক পান করেন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। যশোরের চৌগাছা উপজেলার বর্নি গ্রামে আলমগীর হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তি বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কীটনাশক পান করেন। তার মামাতো ভাই তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পারিবারিক গোলযোগের জের ধরে তিনি কীটনাশক পান করেন। এরপর তার মৃত্যু হয়। আলমগীর হোসেন বর্নি গ্রামের মৃত গোলাম হোসেনের পুত্র।
শহরের লোন অফিসপাড়ায় নমিতা হালদার (৩২) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে তিনি গলায় ফাঁস দেন। এরপর তার মৃত্যু হয়। তার মানসিক সমস্যা ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
সদর উপজেলায় চাঁচড়া ভাতুড়িয়া গ্রামে এইক দিন বিকেলে নাসরিন বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নাসরিন বেগম ওই গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী। সাংসারিক গোলযোগের জের ধরে পরিবারের লোকজনের ওপর অভিমান করে তিনি ঘরের ভেতর ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বামীপক্ষ জানিয়েছেন।
এদিকে গত রাতে পপি (১৭) নামে এক যুবতী কীটনাশকপানে আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে রাত ৭টার দিকে পপি নিজ বাসায় কীটনাশক পান করেন। পরে চিকিৎসার জন্য তার মাতা সালমা বেগম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পপির বাসা শহরের আশ্রম রোড এলাকায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে মৃত্যদের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পপির লাশ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।





