স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আহত ১৫ বন্দি কিশোরের পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। বৃহস্পতিবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন এই আদেশ দেন। ৩ বন্দি কিশোর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. রোকিবুজ্জামান নির্যাতনের শিকার ওই ১৫ বন্দির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। নির্যাতিত ১৫ বন্দি হচ্ছে লালমনিরহাটের মোস্তফা কামাল হৃদয়, যশোরের ছোট হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মাহিম, মারুফ ওরফে ইশান, রাকিব, গোপালগঞ্জের পলাশ, নড়াইলের সাব্বির হোসেন, বগুড়ার সাব্বির প্রামাণিক, ভারতের নাঈম খান ওরফে তামিম ফকির, চুয়াডাঙ্গার পাভেল, নোওয়াখালীর জাবেদ হোসেন, খুলনার আরমান খলিফা, বাগেরহাটের লিমন খান, নাটোরের সাকিব খান ও বগুড়ার রূপক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. রোকিবুজ্জামান জানান, নির্যাতনের শিকার ১৫ বন্দি এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। কারণ, তারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ কারণে তারাই প্রকৃত ঘটনা আদালতে তুলে ধরবে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি নির্যাতনের শিকার বন্দিদের সাথে ইতোমধ্যে কথা বলেছেন। বন্দিরা এ সময় তাকে তাদের ওপর কী ভাবে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়েছিলো তার বর্ণনা দিয়েছে। এর মধ্যে একজন বন্দি তাকে জানিয়েছে, কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ অনুগত বন্দিদের দিয়ে তাদেরকে ডেকে এনেছিলেন। এরপর জানালার বাইরে থেকে তার দুই হাত রেখে রিফাত নামে এক অনুগত বন্দি মুখে গামছা ঢুকিয়ে দিয়েছিলো। সেই সাথে তার দুই পা ধরে রেখে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে পেঠানো হয়েছিলো। উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৮ বন্দি কিশোরের ওপর পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় ৩ বন্দি নিহত ও ১৫ জন আহত হয়।





