যশোর বাজারে প্রচুর ইলিশ দাম কমেনি সবজির

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ ভরা মৌসুমে যশোর বাজারে প্রচুর ইলিশ মাছের জোগান এসেছে। সাগর এবং নদীর পানির দুই রকম ইলিশেরই দেখা মিলছে মাছ বাজারে। দামও চলে এসেছে ভোক্তাদের হাতের কাছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় আড়তদার, পাইকার ও ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। এদিকে সবজির বাজারে আগুনের তাপ মোটেও কমেনি। গত সপ্তাহের মত দাম একই রকম বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের ভরা মৌসুমে গতকাল বুধবারই এই প্রথম যশোর বাজারে প্রচুর ইলিশের জোগান আসে ভোলা, পাথরঘাটা ও চট্টগ্রাম থেকে। সেখানকার মহাজনরা বিক্রির জন্য যশোর মোকামে ইলিশ সরবরাহ করেছেন। গতকাল আড়তদার ও পাইকারদের (পাইকারি ক্রেতা) পদচারণায় মাছ বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। আড়তদারদের মাছ নিলামের হাঁকডাক নিমিষেই পৌঁছে যায় ক্রেতাদের কানে। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে ইলিশের আগমনবার্তা। ভিড় লেগে যায় প্রতিটি মাছের দোকানে। বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ বাজারে ভোলা ও পাথরঘাটা থেকে আসা নদীর মিষ্টি পানির এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, ৭০০/৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৭০০ টাকা, দুই পিস ইলিশের কেজি ৪৫০ টাকা আর ৪ পিস ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। পাশাপশি সাগরের নোনা পানির ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায় (নরম মাছ)। মাছ বাজারের তিতাস ফিশ ও পদ্মা ফিশের আড়তদার সোহেল আলম ও গোলাম তাহের টগর জানান, যশোর বাজারে ইলিশের ভরা মৌসুমে এই প্রথম প্রচুর মাছের যোগান এসেছে। এদিকে যশোরে সবজির অগ্নিমূল্যে ভোক্তারা এখনও জর্জরিত। এ সপ্তাহেও এর তাপ মোটেও কমেনি। গতকাল বুধবার বড়বাজারে খুচরা দোকানে উচ্ছে ৮০ টাকা, বেগুন ৭০, বরবটি ৬০, পটল ৫০, ভেনডি ৫০, টমেটো ৯০, গাজর ৯০, শসা ৪০, ঝিঙে ৪০, কচুরমুখী ৩৫/৪০, মানকচু ৩৫/৪০, আলু ৩৫, পেঁয়াজ ৪৫, রসুন ৮০, আদা ১৪০, শুকনো মরিচ ২২০/২৫০ কাঁচা মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া শীতের আগাম কিছু সবজি উঠেছে বাজারে। শিম প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। এইচ এম এম রোডে কাঁচামালের আড়ত শতাব্দী ভান্ডারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী গোলাম হোসেন নয়ন জানান, শীতের আগে আর সবজির দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও পরবর্তীতে অবিরাম বৃষ্টিতে কৃষকের সবজি ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আগামী দু মাস নতুন মাল ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ভাগ