যশোরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধানসহ ৪ জন আটক,মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যসহ ৪ জনকে আটক করেছে যশোরের ডিবি পুলিশ। এরা ঝিকরগাছা ও মনিরামপুরের দুটি বাড়িতে ডাকাতির সাথে জড়িত। শার্শা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সোনার অলঙ্কারসহ লুণ্ঠিত মালামাল এবং অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২২ আগস্ট দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে মনিরামপুর উপজেলার পলাশী গ্রামের মফিজ পাটোয়ারীর ছেলে মনির হোসেনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে সোনার অলঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন সেটসহ আড়াই লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৭ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা নওয়াপাড়ার (খ্রিস্টানপাড়া) আনিন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে রানা বিশ্বাসের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে সোনা ও রূপার অলঙ্কার, মোবাইল ফোন সেট, নগদ টাকা, একটি পুরনো এয়ারগানসহ ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এভাবে পর পর দুটি বাড়িতে ডাকাতি হওয়ায় এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় পুলিশ প্রশাসন। ফলে ডাকাতির সাথে জড়িতদের আটক ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য যশোরের ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ডিবি পুলিশের ওসি সোমেন দাশ, এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম ও এসআই শামীম হোসেন নানা পন্থায় অবস্থান শনাক্তের পর গত সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে শার্শা উপজেলার নাভারন-সাতক্ষীরার মোড়ে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের প্রধান বাহার আলী তরফদার ও তার সহযোগী আব্দুস সালাম সরদারকে আটক করেন। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে শার্শা উপজেলার বারিপোতা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয় ডাকাত দলের আরেক সদস্য শফিকুল ইসলাম ওরফে রেজাউল ওরফে গুড্ডুকে। এ সময় ঝিকরগাছার রানা বিশ্বাসের বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত একটি এয়ারগানসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত শাবল, রেঞ্জ, চাকু ও ১২টি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার হয়। এরপর তাদের স্বীকারোক্তিতে শার্শার নাভারন রেলবাজারের তন্নি জুয়েলার্সের মালিক তহিদুর রহমান ওরফে কালুকে। এ সময় তার কাছ থেকে ঝিকরগাছা ও মনিরামপুরের দুটি বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত সোনার অলঙ্কারের মধ্যে ২ ভরি, ৯ আনা, ৫ রতি অলঙ্কার এবং সোনার অলঙ্কার বিক্রির ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ডাকাত দলের প্রধান বাহার আলী তরফদারের ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ওয়ান শ্যুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, তন্নি জুয়েলার্সের মালিক কালু দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত দলের কাছ থেকে গোপনে ডাকাতি করা সোনা ও রূপার অলঙ্কার কম দামে কিনে থাকেন। এ জন্য তিনি মোবাইল ফোনে ডাকাত দলের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। তার দোকানে কোন কারিগর নেই। তিনি নিজেই ডাকাতদের কাছ থেকে কেনা সোনার অলঙ্কার গলিয়ে তা বিক্রি করে থাকেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার, নাভারন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান, মনিরামপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুুলিশ সুপার সোয়েব আহমেদ, ডিবি পুলিশের ওসি সোমেন দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতরা হচ্ছেন-সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের ছেলে বর্তমানে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারন পুরাতন বাজার এলাকার জনৈক আশিকের বাড়ির ভাড়াটিয়া বাহার আলী তরফদার (৩৪), সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আনছার গাজীর ছেলে বর্তমানে যশোরের শার্শা উপজেলার বারিপোতা গ্রামের জনৈক আব্দুল কাদেরর বাড়ির ভাড়াটিয়া (বাহার আলী তরফদারের ভগ্নিপতি) শফিকুল ইসলাম ওরফে রেজাউল ওরফে গুড্ডু (৪০), সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা শ্বেতপুর গ্রামের মৃত মোকছেদ সরদারের ছেলে আব্দুস সালাম সরদার (৫৫) ও যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে তন্নি জুয়েলার্সের মালিক তহিদুর রহমান ওরফে কালু (৪০)।

ভাগ