আগের মতো পুলিশ টহল না থাকার অভিযোগ : যশোর শহর ও পল্লীতে হঠাৎ বেড়েছে চুরি, আতঙ্কে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহর ও পল্লী এলাকায় হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি। প্রায় প্রতিরাতে কোথাও না কোথাও ঘটছে চুরির ঘটনা। এমনকী একই রাতে একই এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনাও ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামে দুটি দোকানে চুরি হয়েছে। ফলে এভাবে জেলায় চুরি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাধারণ লোকজনের অভিযোগ, পুলিশ আগের মতো টহল ডিউটি না দেওয়ায় চুরি বেড়ে গেছে। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা পুলিশি টহল ডিউটি বাড়িয়ে দিয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি যশোর সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ চোরচক্রের তৎপরতা বেড়ে গেছে। চোরের হাত থেকে বাড়ি এমনকী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাচ্ছে না। নানা কৌশলে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে চোরচক্র নগদ টাকা, সোনার অলঙ্কার, কাপড় চোপড়সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও যশোর সদরের ঘুরুলিয়া গ্রামের দুটি মুদি দোকানে চুরি হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতের কোন এক সময় দুর্বৃত্তরা নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘুরুলিয়া মসজিদপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে কবির হোসেনের মুদি দোকানে হানা দিয়ে নগদ টাকাসহ অর্ধলাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। একই রাতে অনুরূপভাবে ঘুরুলিয়া উত্তরপাড়ার মোজাহার আলীর ছেলে মুস্তাফিজুর রহমান লাল্টুর মুদি দোকানে হানা দিয়ে ৩টি মোবাইল ফোন সেট ও ২০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা। এর তিনদিন আগে ২৪ আগস্ট পাশে একই ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে সামাউল ইসলামের বাড়িতে হানা দিয়ে দুটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরচক্র। এর মধ্যে একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল (যশোর-হ-১৫-০৬০৫) এবং অপরটি হোন্ডা টেগার মোটরসাইকেল (যশোর-ল-১২-৫৫৬৯)। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশের আগের ইনচার্জ থাকাকালে আইনশৃঙ্খলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তিনি বদলি হওয়ার পর অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ ঘটাচ্ছে। মাদক ব্যবসাও বেড়ে গেছে উদ্বেগহারে। অথচ ফাঁড়ি পুলিশ নীরব। তাদেরকে এলাকায় টহল দিতেও দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে শুক্রবার দিনদুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামে শহিদুল ইসলাম নামে একজন রিকশাচালকের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। জুয়েল (২০) নামে এক চোর কৌশলে ঘরে ঢুকে শোকেস ভেঙ্গে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। অবশ্য পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের লোকজন দেখতে পাওয়ায় তাকে হাতেনাতে আটক করা গেছে। জুয়েল ভোলা সদরের ননীগ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে। তাকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পরে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। গত ২৬ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ঘোড়াগাছা কলেজপাড়ার কৃষক রফিকুল ইসলামের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কৌশলে ঘরের ভেতর ঢুকে নগদ ২ লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন রফিকুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও এখনো পর্যন্ত এ সংক্রান্তে কোন মামলা রেকর্ড হয়নি। গত ২১ আগস্ট যশোর শহরের সিটি কলেজপাড়ার একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বাড়ির একজন নারী কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
দ্ইু সপ্তাহ আগে যশোর শহরের খড়কি কলাবাগান এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন একজন রিকশাচালকের বাড়ি চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ওই বাড়ি থেকে সোনার কানের দুল ও একটি টেলিভিশন নিয়ে যায়। গত ৭ আগস্ট বিকেলে সদর উপজেলার মোবারকাটি সন্ন্যাসী দিঘিরপাড় থেকে একটি টিভিএস ব্র্যান্ডের অ্যাপাচি মোটরসাইকেল (যশোর-ল-১১-৬৪৭০) চুরি হয়ে যায়। এই মোটরসাইকেলের মালিক শহরের শংকরপুরের মেহেদী হাসান বিপ্লব। তিনি সেখানে বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে তার মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। গত ১৫ আগস্ট সদর উপজেলার মালঞ্চী বাজারের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র ওই দোকানে হানা দিয়ে দুটি পানির মটর ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৪ বস্তা ফিসফিড নিয়ে যায়। গত ২৬ জুলাই সকালে সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজার থেকে একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। এই মোটরসাইকেলের মালিক নরেন্দ্রপুর খন্দকারপাড়ার বাসিন্দা ফকরুজ্জামান। মাসখানেক আগে যশোর শহরের পুরাতন কসবা আজিজ সিটির একটি বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র ওই বাসায় হানা দিয়ে ১০ ভরি সোনার অলঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেছে। উল্লিখিত ছাড়াও যশোর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুধু যশোর শহর ও সদর উপজেলা নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ঝিকরগাছায় পরপর দুই রাতে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। এদিকে যশোর জেলায় হঠাৎ আশঙ্কাজনকহারে চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। লোকজন তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আগে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশকে নিয়মিত জোরদার টহল দিতে দেখা যেতো। যে কারণে চুরির ঘটনা কম ঘটতো। কিন্তু এখন আর পুলিশকে জোরদার টহল দিতে দেখা যায়না। এই সুযোগে চোরচক্রের তৎপরতা বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, তারা পুলিশি টহল বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ভাগ