করোনাভাইরাস: স্কুল বন্ধে শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও কী হারাচ্ছে শিশুরা?

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সবার আগে যে পদপে নিয়েছে সেটি হচ্ছে শিা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা। তখন থেকেই প্রায় দুই মাস যাবত স্কুল বন্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বলেছেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি উন্নতি না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। দীর্ঘ সময় এই অস্বাভাবিক বিরতিতে শিার্থীদের পড়াশুনা যেমন তিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি তারা মানসিকভাবে ভালো নেই।
অভিভাবক এবং বিশ্লেষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শিশু শিার্থীদের উপর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সময়টিতে পড়াশুনার পাশাপাশি শিার্থীরা সামাজিকতাও শিখে। এেেত্র স্কুলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষক এবং অভিভাবকরা। লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা সানাউল্লাহ সানুর দুই সন্তান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিার্থী। একজন দ্বিতীয় এবং অন্যজন তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মি: সানু বলেন, তার সন্তানরা এখন লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। “স্কুলে পড়ালেখা না হলে বাচ্চারা বাসায় পড়তে চায় না,” বলছিলেন মি.সানু। তিনি বলেন, তার শিশু সন্তানরা নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে যাওয়া, সেখান থেকে ফিরে আসা এবং বাসায় পড়তে বসার বিষয়গুলো নিয়মিত রুটিনের মতো ছিল। “এখন তাদের রুটিন বলতে আর কিছু নাই। স্কুল ছিল ওদের আনন্দের জায়গা। সেখানে ওরা খেলাধুলা করতো। সবচেয়ে বেশি শিখতো সামাজিকতা,“ বলছিলেন মি: সানু। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারনে স্কুল বন্ধ থাকায় বাসায় বন্দি শহরের শিার্থীরা।
যশোরের শার্শা উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিকতা করেন ফেরদৌসি রহমান। তিনিও বললেন, দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের মানসিক বিকাশের উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, তাদের স্কুলে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন থাকে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা সেসব বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তিনি উল্লেখ করেন। “আমাদের স্কুলে একটি বাগান আছে। কিভাবে বাগানের যতœ নিতে হয় সেটাও শিশুদের শেখানো হয়,” বলেন ফেরদৌসি রহমান। বাংলাদেশের শিা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করে গণস্বারতা অভিযান। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিা প্রতিষ্ঠানে পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে শিার্থীদের বড় প্রত্যাশার জায়গা থাকে খেলাধুলা এবং বন্ধু মহল। “অনেক শিশু প্রথমে স্কুলে যেতে চায় না। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে যখন তাদের বন্ধু তৈরি হয় তখন সে জায়গাটি তাদের জন্য আনন্দময় হয়ে উঠে,” বলেন রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, যে বয়সটিতে শিার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে, সে সময় তাদের সামাজিকতা শেখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। স্কুলে বিভিন্ন শিার্থী ও শিকদের সাথে মেলামেশা, নানা ধরণের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের সমাজের সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করে। “স্কুলের মাঠ তাদের অতি প্রিয়। বিশেষ করে শিশু শিার্থীদের। খোলা বাতাসে ঘরের বাইরে আনন্দটা তারা মিস করে,” বলেন রাশেদা কে চৌধুরী।
-বিবিসি বাংলা