মুকুরুল ইসলাম, মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোর চৌগাছার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে স্থানীয়দের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজ কিংবা কালভার্ট। এ সকল নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু ব্রিজের দুই পাশে খুঁড়ে রাখা সড়ক আজও পাকা করা হয়নি। এর ফলে পথচারীদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী খুঁড়ে রাখা সড়ক দ্রুত পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সূত্র জানায়, চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্ব স্ব এলাকার মানুষের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয় ব্রিজ বা কালভার্ট। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে যাতে কৃষকের ফসলের কোন ক্ষতি না হয় সেই লক্ষ্যে এসব ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রিজের নির্মাণ কাজ ১ থেকে ৫ বছর আগে শেষ হয়েছে, অথচ দুই পাশে খুঁড়ে রাখা সড়ক আজও পাকা হয়নি। ঠিকাদার ব্রিজের কাজ শেষ করে দুই পাশে যেনতেনভাবে মাটি ভরাট করে চলে গেছেন। চৌগাছার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজারাখানা গ্রামের বর্ষাগাড়ি খালের উপর একটি ব্রিজ ২-৩ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। হাজরাখানা, টেগুরপুর, আন্দারকোটা গ্রাম ও মাঠের পানি এই খাল দিয়ে পাশে কপোতাক্ষ নদে পড়ে। ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর যেমন উপকার হয়েছে, তেমনিভাবে ব্রিজের দুই পাশের খুঁড়ে রাখা জায়গা পাকা না হওয়ায় দুর্ভোগও বেড়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, এই সড়কটি দিয়ে পেটভরা, হাজরাখানা, নারায়নপুর, ইলেশমারি, ভগমানপুর, টেগুরপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। পথচারীরা যখন সারা রাস্তা পাড়ি দিয়ে ওই ব্রিজের কাছে পৌঁছায় তখন দুর্ভোগ যেন কয়েকগুন বেড়ে যায়। মূল সড়ক থেকে ব্রিজটি তুলনামূলক উঁচু ও ব্রিজের দুই পাশ আজও কাঁচা সেকারণে এই কষ্ট বলে অনেকে মনে করছেন। হাজরাখানা গ্রামের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান, পেটভরা গ্রামের কন্ঠশিল্পী আব্দুল গনি, নারায়নপুর গ্রামের চাকুরীজীবী আবু সাঈদ রাজু বলেন, দিন তারিখ ঠিকমত বলতে না পারলেও এই ব্রিজটি বেশ কয়েক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। ঠিকাদাররা ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ করে মূল সড়কের খুঁড়ে রাখা দুই পাশ কোনরকম মাটি দিয়ে ভরাট করে চলে গেছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই মাটি ভরাটের জায়গা দেবে যায়। ব্রিজে উঠতে মানুষের ব্যাপক কষ্ট হতে থাকে। কোন উপায় না পেয়ে এলাকার মানুষ ইটের খোয়া দিয়ে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করেন। এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনা লেগেই আছে। গত ২৬ আগস্ট পেটভরা গ্রামের জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে চৌগাছা উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। ব্রিজে উঠতে গিয়ে তারা মোটরসাইকেলসহ খালের মধ্যে পড়ে গুরুতর আহত হন। একই অবস্থা ফতেপুর-ধুলিয়ানী সড়কের উপর নির্মিত ব্রিজের। এই ব্রিজটি ৫ থেকে ৬ বছর আগে নির্মাণ হয়েছে। অথচ দুই পাশের খুঁড়ে রাখা জায়গা আজও পাকাকরণ হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এই কাঁচা স্থানে পানি জমে থাকায় চলচলে বেশ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি শুনেছি উপজেলার বেশ কয়েকটি ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের পর দুই পাশ পাকাকরণ হয়নি। যে কারণে স্থানীয়দের বেশ কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। জনস্বার্থে যতদ্রুত সম্ভব ব্রিজগুলোর দুই পাশে পাকা করা হবে।’





