স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের হামলায় একই পরিবারের ৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- কুলিয়া গ্রামের কৃষক মুস্তাজ আলী (৫৫), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৫০), সন্তান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান ৩য় সেমিস্টারের ছাত্র আমির হামজা (২১), যশোর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র হাসিবুর রহমান (২৩), সরকারি এমএম কলেজের ছাত্রী রাবেয়া খাতুন (২৭), সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রী শাহিদা খাতুন (২৬) ও পানিসারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র নাইম (১৪)। আমির হামজা ও রাবেয়া খাতুন জানিয়েছেন, পিতা ধার দেনা করে এবং কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। তাদের বাড়ির পাশে গ্রামের রোকন, মাসুদ, আজম বাবু, আকাশ, হাবু, ইমন, একটি পরিত্যাক্ত ভবনের ভেতর গভীর রাত পর্যন্ত কেরাম খেলে এবং মাদক সেবনসহ নানা অপকর্ম করে। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে চিৎকার করে আশপাশে বসবাসকারীদের অতিষ্ঠ করে তোলে। এতে তাদের পড়াশুনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি হামলা চালায় এবং লাঠি, রড, শাবল দিয়ে তাদের বেধড়ক মারপিট করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় কারো হাত ভেঙে যায়, কেউ রক্তাক্ত জখম হন। মাথায় আঘাত করার কারণে আফরোজা ও মুন্তাজ আলী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। পরে পাশের লোকজন সকলকে উদ্ধার করার পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা হাসপাতালের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আফরোজা বেগমের এখনো জ্ঞান ফিরে আসেনি। অর্থের অভাবে দরিদ্র কৃষক পরিবারের লোকজন ওষুধ কিনে খেতে পারছেন না। গ্রামবাসী জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তাদের কেউ মাদক মামলার আসামি। সম্প্রতি জামিনে জেল থেকে বের হয়েছে। আবার কেউ শিশু নির্যাতন মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে বের হয়েছে। ঝিকরগাছা থানা পুলিশ এ সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে তারা আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে বলে গ্রামবাসী জানান।





