আহসান হাবিব, আশাশুনি (সাতীরা) ॥ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রিং বাঁধ ভেঙে দ্রুতগতিতে খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষের পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করছে। ফলে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রায় ২ হাজারে বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চিংড়ি ঘের ভেসে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় কাঁচা ঘরের দেয়াল পড়ে এক গৃহবধূর আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। এসব প্লাবিত এলাকায় স্যানিটেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। সর্বত্রই সুপেয় পানি, শুকনো খাবার, গবাদিপশু ও শিশু খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ খবরে শনিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম আশাশুনি ও শ্রীউলার বানভাসী মানুষদের পাশে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে নদীর পানি রক্ষা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলেও এতদিন উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালা এলাকায় মেইন সড়ক ও হাজরাখালী কেয়ারের ওপর রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখা হয়েছিণ। কিন্তু গত দুই দিন আগে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও টানা বর্ষণে রিং বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়ে ভেতরে পানি ঢুকছে। ফলে মহিষকুড়, গাজীপুর, শ্রীউলা ও পুইজালাসহ নতুন নতুন গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। শনিবার ও রবিবার দুপুরের জোয়ারে আশাশুনি সদরের কমলাপুর থেকে পুইজালা বাজারের ইটের সোলিং রাস্তার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আশাশুনি ইউনিয়নের খাসেরাবাদ, কমলাপুর, বলাবালিয়া, হাড়িভাঙ্গা, শীতলপুর, ডাসেরআটিসহ ৯ গ্রামের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। ওই রাতেই কমলাপুর কালভার্ট, বিলনাটানা কালভার্টসহ খাসেরাবাদ গ্রামের ৩টি কালভার্ট দিয়ে পানি রাস্তার উত্তর পাশে ঢুকে সলুয়ার খালে পড়তে থাকে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলন জানান, খোলপেটুয়া নদী ভাঙনে প্লাবিত শ্রীউলার পানি শুক্রবার সকাল থেকে আশাশুনির মধ্যে ঢুকে পরপর দুটো জোয়ারে ৬ নং ওয়ার্ডের ঠাকুরাবাদ, দক্ষিণ ও মধ্যম বলাবাড়িয়া, হাঁসখালী ও গাইয়াখালী গ্রাম ও ৯নং ওয়ার্ডের কমলাপুর, ডাসেরআটী ও খাসেরাবাদ গ্রামের প্রায় ৭০০ পরিবার এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতাপনগর ইউনিয়নের নাকনা ও রুইয়ারবিল রিং বাঁধ ভেঙে প্রতাপনগর ইউনিয়ন সম্পূর্ণ, মাড়িয়ালা রিং বাঁধ ভেঙে শ্রীউলা ইউনিয়ন সম্পূর্ণ এবং শ্রীউলার পানি ও দয়ারঘাট রিং বাঁধ ভেঙে আশাশুনি সদরের আংশিক প্লাবিত হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় নতুন নতুন ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার অধিকাংশ মাটির দেয়ালের ঘরবাড়ী।
আদালতপুর গ্রামে প্লাবিত এলাকায় অনতিবিলম্বে সুপেয় পানি, শুকনো খাবার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এসব প্লাবিত এলাকার সমস্যা সমাধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনাসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।



