জি.এম. মিজানুর রহমান, পাইকগাছা (খুলনা) ॥ শিবসা নদীর পনির তোড়ে পাইকগাছার পাঁচ ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁঁঁঁঁঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম। ভেঙেছে বাড়ি,তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের, পুকুর, জলাশয়, আমন ধানের বীজতলা ও ফসলের ক্ষেত।
উপজেলার উপকূলবর্তী সোলাদানা, লতা দেলুটি ও গড়ইখালী ইউনিয়নের মানুষ প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে মারাত্মক ভাবে তিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙেছে সোলাদানার ভাঙ্গা হাড়িয়ার গেটের মুখ, টেংরামারি ও বেতবুনিয়া গুচ্ছগ্রাম। পাউবো’র বাঁধ উপচে প্লাবিত হয়েছে সোলাদানার পতনের আবাসন, গড়ইখালীর বাজারের আবাসন ও আশ্রয়ন কেন্দ্র। দেলুটির চকরি-বকরি বদ্ধ জলমহলের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গেওয়াবুনিয়া, পারমধুখালী ও চকরি বকরি গ্রাম। গদাইপুরের কচুবুনিয়া অঞ্চল ও লতার কাঠামারি, বাইনচাপড়া ও হাড়িয়া গ্রাম। গড়ইখালীর আবাসন ও আশ্রয়ন কেন্দ্রে দেড় শ পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার। শিবসা নদীর পানিতেই সয়লাব হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার বিঘা চিংড়ী ঘের, পুকুর ও জলাশয়, শ শ বিঘা আমনের বীজতলা, ফসলের ক্ষেত। আবাসন, আশ্রয়ন কেন্দ্র ও গুচ্ছ গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার মধ্যে মানবের জীবন কাটাচ্ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। গো খাদ্যের চরম অভাব দেখা দেয়ায় গবাদিপশু নিয়ে জলমগ্ন মানুষগুলো পড়েছে মহাবিপদে।
এ ব্যাপারে সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক ও দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষত কাটিয়ে ঊঠতে না উঠতেই আবার এ দুরবস্থা। বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট সব কিছুই পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টেকসই বেড়ি বাঁধ ছাড়া এ উপকূল অঞ্চল রক্ষা করা কোনভাবেই সম্ভব না। পাউবো উপ-প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন জানান, অর্থ সংকটের কারণে টেকসই বেড়িবাঁধ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট চালসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্্রী দুর্গতদের মাঝে দেয়া হয়েছে।




