নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে

0

লকডাউনের সময় দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের খবর গণমাধ্যমে কমই এসেছে। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর ক্রমেই তেমন ঘটনাবলি নজরে পড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের অনেক ঘটনা ঘটছে। নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গত বুধবার রাতে পোশাক কারখানার এক কর্মীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বরিশালের উজিরপুরে কিনিকে এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কিনিকের পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৯ জুন থানায় মামলা হয়। মামলার আসামিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুই তরুণীকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতের এ ঘটনায় পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন এক তরুণীর বাবা। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং মোবাইল ফোনে সে দৃশ্য ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাটোরের গুরুদাসপুরে এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামীর সহযোগিতায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে।
এ রকম ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা বা লাঞ্ছনার খবর এখন প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে আসছে। আবার এমনও হতে পারে, অনেক খবর গণমাধ্যমে আসে না। সামাজিক নিরাপত্তা ও লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পরিবার হয়তো এসব ঘটনা চেপে যায়। কিন্তু এভাবে তো সমাজ চলতে পারে না। এ ধরনের অপচেষ্টার নেপথ্য কারণ কী সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। দেশে নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা বাড়ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী ওই বছর সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছিল। সেবার ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয় এক হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু। ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল ৭৩২। সামাজিক এই অবয় কী করে রোধ করা যায় তা ভেবে দেখা দরকার। করোনা অনেক সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। হারিয়ে যাওয়া সামাজিক অনুশাসন ও মূল্যবোধ কী করে প্রতিষ্ঠা করা যায় তা চিন্তা করতে হবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীকেও যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।