ইন্টারকে হারিয়ে কোলনে সেভিয়ার উৎসব

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ উয়েফা কাপ/ইউরোপা লিগের ট্রফিটার নাম হওয়া উচিত সেভিয়া ট্রফি। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে ওঠা সেভিয়াকে কেউ হারাতে পারে না। ট্রফিটা তাদের জন্য যেন বাঁধা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠিত ফাইনালেও তাদের হারাতে পারলো না ইন্টার মিলান। পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতলো সেভিয়া। এই নিয়ে ছয়বার ফাইনালে উঠেই এ প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতলো স্প্যানিশ ক্লাবটি। এতবার আর কোনও ক্লাব ইউরোপা লিগ জেতেনি! অনেক পেছন থেকে এসে এবার সিরি ‘আ’তে চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পেছনে থেকে তারা রানার্সআপ। ইউরোপা লিগে তো দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। সেমিফাইনালে শাখতার দোনেৎস্ককে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠা। নয় বছরের ট্রফিখরা ঘোচাবেন বলে একরকম হুঙ্কারই ছেড়েছিলেন ইন্টার কোচ আন্তোনিও কন্তে। কিন্তু সামনে যদি সেভিয়া থাকে, তাহলে সাবধান হয়েই কথা বলা উচিত। ২০১৪ থেকে ২০১৬- টানা তিনবার শিরোপাজয়ী সেভিয়াকে হারিয়ে ইন্টারকে ট্রফি জেতানো হলো না কন্তের। ২০১১ সালে জেতা কোপা ইতালিয়েই তাদের ক্যাবিনেটে সর্বশেষ ট্রফি। এর আগের বছর ইন্টারকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছিলেন জোসে মরিনিয়ো। উল্টোদিকে স্পেনের ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ হুলেন লোপেতেগি তার কোচিং ক্যারিয়ারে এই প্রথম শিরোপা জিতলেন। এটি বড় আবেগের। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যখন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন তার গলায় পদক পরিয়ে দিলেন, লোপেতেগির চোখে জল। আনন্দ ঝরলো কান্না হয়ে।
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবার দেখেছে স্প্যানিশদের ভরাডুবি। ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ বিদায় নিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আতলেতিকো মাদ্রিদকে সেমিফাইনালে যেতে দেয়নি জার্মানির নতুন দল লাইপজিগ। কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলের লজ্জায় ডুবিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। তর্কসাপেক্ষে স্প্যানিশ লিগ এখনও ইউরোপের সেরা, আর সেই লিগের দলগুলোর দৈন্যদশায় প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল স্পেনের ফুটবলের মান নিয়ে। তবে সেভিয়া ইউরোপ থেকে খালি হাতে ফেরেনি। ইন্টার মিলানকে হারিয়ে ইউরোপা লিগ জিতে তারা মান বাঁচিয়েছে স্পেনের। অবশ্য অনেকেই বলতে পারেন, যে দলটি সর্বশেষ লা লিগা জিতেছে ৭৪ বছর আগে, তাদের এমন ইউরোপ জয়ে স্পেনে কী আর আলোড়ন হবে। গত জুলাইয়ে নকআউট পর্বের ড্র-য়ের সময় বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক ডিফেন্ডার টমাস হেলমার তো আলটপকা বলেই ফেলেন, ইউরোপা লিগ হলো ‘হেরো দলগুলোর প্রতিযোগিতা।’ তবে শুক্রবার সেভিয়া ও ইন্টার মিলান ইউরোপা লিগের ফাইনালটিকে যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাঙিয়েছে তা চ্যাম্পিয়নস লিগের অনেক ফাইনালেই দেখা যায় না। প্রথমার্ধেই চার গোল। দুবার হেডে গোল করে সেভিয়াকে সমতায় ফিরিয়ে এগিয়েই দেন তাদের ডাচ মিডফিল্ডার লুক ডি ইয়ং। ১৩ মিনিটে তাকে ডান উইং থেকে ক্রস দিয়েছিলেন হেসুস নাভাস। ৩৪ মিনিটে এভার বানেগার ফ্রি-কিক কাজে লাগিয়েছেন । পাঁচ মিনিটে সেভিয়ার ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ডিয়েগো কার্লোস পেনাল্টি উপহার দেন রোমেলু লুকাকুকে। তা থেকে মৌসুমে নিজের ৩৪তম গোল করে ইন্টারকে প্রথমে এগিয়ে দেন বেলিজিয়ান স্ট্রাইকার। ৩৬ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ডিয়েগো গোডিনের হেড সমতায় ফেরায় (২-২) ইন্টারকে। এত বড় ম্যাচে ইন্টারের বড় আশা লাউতারো মার্তিনেজ এক হতাশার নাম। শেষদিকে তাকে তুলেই নিয়েছেন কোচ। পেনাল্টির পাপস্খলন করে ৭৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে সেভিয়াকে আবার এগিয়ে দেন কার্লোস। যদিও গোলটা হয়েছে লুকাকুর পায়ের ছোঁয়ায়। বাইরের দিকে যাওয়া বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে পায়ে ছোঁয়া লাগান লুকাকু, দিক বদলে যেটি হয়ে গেছে সেভিয়ার জয়সূচক গোল। শেষদিকে সময় নষ্ট করার ‘নাটকেও’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্প্যানিশরা। ট্রফি হাতে তুলে সেভিয়ার হেসুস নাভাস একটা বৃত্ত পূরণ করলেন। ২০০৬ সালে প্রতিযোগিতার নাম যখন উয়েফা কাপ, মিডলসবোরোকে হারিয়ে জেতা শিরোপাজয়ী সেভিয়া দলের সদস্য ছিলেন। ২০২০ সালে ইউরোপা লিগজয়ী সেভিয়ার অধিনায়কই তিনি!