লোকসমাজ ডেস্ক॥ আবারও সেই বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি নেইমার ডি সিলভা জুনিয়র। রোববার রাতে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এস্টাডিও দা লুজে ইউরোপ সেরার লড়াই, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা দখলে মুখোমুখি হচ্ছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এবং ফরাসি ক্লাব পিএসজি। তবে ফুটবলপ্রেমীদের চোখে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল হচ্ছে বায়ার্ন বনাম নেইমারের লড়াই। পিএসজি মানেই এখন যেন এক নাম- নেইমার। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা ২০১৭ সালে যে স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে বার্সেলোনার মত ক্লাব ছেড়ে এসে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন, অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে। রোববার রাতেই হয়তো স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপটাও অতিক্রম করে যেতে পারবেন তিনি।
সেমিফাইনালে জার্মান ক্লাব আরবি লেইপজিগকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে নেইমার-এমবাপের দল পিএসজি। অন্যদিকে ফরাসি ক্লাব লিওঁকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মান চ্যাম্পিয়নরা যদিও এখন যেন হাসতে-খেলতেই গোল করে থাকেন। শেষ দুই ম্যাচে হান্সি ফ্লিকসের শিষ্যদের গোলের সংখ্যা ১১টি। কিন্তু নেইমার-এমবাপে এমন এক জুটি, যারা পূর্ণ ফর্মে থাকলে তাদেরকে আটকানো যে কারো জন্য কঠিন। কিলিয়ান এমবাপে পুরোপুরি মুখিয়ে আছেন জার্মান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে। বায়ার্নের হাই ডিফেন্সিভ লাইন ভেঙে তার স্বপ্ন পিএসজিতে স্বপ্নের দরজায় পৌঁছে দিতে। আর নেইমার? এরই মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মাত্র ৫ বছর আগের ঘটনা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে বায়ার্নকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বার্সেলোনা।
ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার ওই সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে করেছিলেন মোট ৩ গোল। এরমধ্যে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে নেইমার যেন একাই ধ্বংস করে দিয়েছিলেন বায়ার্নকে। সেইদিন পেপ গার্দিওলার দলকে বায়ার্নের সামনে রহস্যময় করে তুলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। গত মে মাসের শেষ দিকেই ইউটিউবে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, নেইমারের সেই অসাধারণ পারফরম্যান্স নিয়ে। যেটার শিরোনাম ছিল, ‘নেইমার ডেস্ট্রইং বায়ার্ন মিউনিখ।’ এবার সেই একই পারফরম্যান্স দেখানোর জন্য আরও একটি দুর্দান্ত সুযোগ পেয়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপার স্টার।
তবে, ওই ম্যাচে নেইমার খেলেছিলেন মেসি এবং লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে। মাঝ মাঠে ছিলেন জাভি-ইনিয়েস্তার মত ফুটবলার। মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার (বিখ্যাত এমএসএন) ত্রিফলা ছিলেন যেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর এবং বিধ্বংসী ফুটবল জুটি। সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছিল বার্সা নেইমার এবং মেসির পায়ের ওপর ভর করেই। দু’জন মিলে সেবারের আসরে করেছিলেন ১০ গোল করে মোট ২০ গোল। কিন্তু এখন তো সময় বদলে গেছে। ২০১৭ সালেই নেইমার বার্সা ছেড়ে এসে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। একটাই উদ্দেশ্য, নিজের নামকে প্রতিষ্ঠা করা। মেসি-রোনালদোদের মত একটি ক্লাব হবে তার নামে পরিচিত। এবার নেইমারের সেই কাংখিত সময়টা উপস্থিত। এমবাপে নেইমারের দারুণ জুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু বায়ার্নকে হারিয়ে পিএসজির শিরোপা জিততে হলে, অবশ্যই নেইমারের জ্বলে ওঠা খুবই প্রয়োজন। এর আগেও যেটা তিনি পেরেছেন, ৫ বছর পর কি এবার সেটা পারবেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার? আপাতত, রোববার রাত পর্যন্ত অপেক্ষা।





