৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে মন্ত্রণালয়ের কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তিন বন্দি কিশোর হত্যার ঘটনায় আটক যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের আদেশের কপি পেয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। আজ শনিবার অথবা কাল রোববার কমিটির সদস্যরা জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসবাদ করবেন। অপরদিকে সমাজসেবা অধিদফতর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির আবেদন আদালতে মঞ্জুর হলেও তারা আটক ৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আটক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এবং তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ায় এখন তাদের আর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করছে না উচ্চ পর্যায়ের ওই তদন্ত কমিটি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, তারা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের আটক ৫ কর্মকর্তাকে বন্দি হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে যে আবেদন করেছিলেন গত বৃহস্পতিবার তা মঞ্জুর হয়েছে। এই আদেশের কপি একইদিন সন্ধ্যায় তারা পেয়েছেন। তিনি জানান, তিনিসহ কমিটির অপর দুই সদস্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল গোলাম রব্বানী আটক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। যেহেতেু কর্মকর্তারা জেলখানায় আটক আছেন সেই কারণে তাদেরকে জেলগেটে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ২২ অথবা ২৩ আগস্ট তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। ৫ কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পর তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হবে। অপরদিকে বন্দি হত্যা মামলায় আটক ৫ কর্মকর্তাকে আর জিজ্ঞাসাবাদের কোন প্রয়োজন মনে করছে না সমাজসেবা অধিদফতর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। ওই কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) যুগ্ম সচিব সৈয়দ নুরুল বাসির জানান, তাদেরকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। ফলে তারা বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তারা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের আটক ৫ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তদন্তের জন্য তাদের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে আদালত থেকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমোদন পাননি। যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ আর হয়নি। তবে এখন আর কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করছেন না তারা। তিনি বলেন, যশোর শিশু কেন্দ্রে গিয়ে অন্যান্য কর্মকর্তা, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মী বাহিনী ও বন্দি শিশুদের সাথে তাদের কথা হয়েছে। এসব লোকজনের সাথে কথা বলে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তাতে ওই ৫ কর্মকর্তার দায়িত্বে পালনের ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ওই ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশুদের সাথে যে আচরণ করার কথা তারা তা করেননি। আর হত্যার মতো ঘটনা কখনো লঘু আকারে দেখার সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৮ বন্দির ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় ৩ বন্দি কিশোর নিহত ও আরও ১৫ আহত হয়। বন্দি হত্যার ঘটনায় মামলা হলে আটক হন ৫ কর্মকর্তা যথাক্রমে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, উপ-তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুক, ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর একেএম শাহানুর আলম ও সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন।

ভাগ