চৌগাছায় ঠাণ্ডা জ্বরের ওষুধ মার্কেট আউট, বিপাকে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় ঠাণ্ডা জ¦র, কাঁশি নিরাময়ের ওষুধ ফার্মেসিতে মেলানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু ওষুধ হঠাৎ করেই বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। আবার বেশ কিছু ওষুধ প্রায় একমাস ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। ফার্মেসি মালিকরা বলছেন, সাপ্লাই না থাকার কারণে বিক্রি করতে পারছি না। আবার বেশ কিছু ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ। জীবন রাকারী ওষুধ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতনমহল।
সূত্র জানায়, সারাবিশে^র মত মহামারী করোনা ভাইরাস গ্রাস করেছে বাংলাদেশকে। প্রতিদিনই এই ভাইরাসে শত শত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন আর দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রধান উপসর্গ হচ্ছে জ¦র, ঠাণ্ডা, কাঁশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। কিন্তু একটু আধটু সর্দি-কাঁশি, জ¦র, গলাব্যথা প্রতিটি পরিবারে বলা চলে লেগেই থাকে। আর এ ধরনের ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হলেই মানুষ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতেন এবং অনেকেই সেরে উঠতেন। ফার্মেসিগুলোতে হরহামেশা পাওয়া যেত ঠাণ্ডাজনিত রোগের ওষুধ। অথচ বেশ কিছু দিন ধরে এই ধরনের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাস ধরে চৌগাছার ফার্মেসিগুলোতে নাপা ৫০০, নাপা এক্্রটেন্ড, ডকসিক্যাপ ১০ এমজি, ফেনাডিন ১২০,্ এইচ প্লাস, সিনামিন, হিস্টাসিন, টিউরিন, এজমাসল ইনহেলার জাতীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি গ্যাসের ট্যাবলেট প্যান্টনিক্স ২০ ও প্যান্টনিক্স ৪০, রেব ২০, এলার্জির ট্যাবলেট রুপাসহ বেশ কিছু ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে ওষুধ সংকট অন্যদিকে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বর্তমান বর্ষা মৌসুম চলছে। এই মৌসুমে এমনিতেই মানুষ জ¦র, সর্দি-কাঁশিতে আক্রান্ত হয়। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেলে এ রোগ অনেকটাই ভালো হয়। কিন্তু সেই ওষুধ পাওয়া নিয়ে বড়ই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ওষুধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, নাপা জাতীয় ওষুধ বাজারে নেই। পৌর সদরের একাধিক ফার্মেসি মালিক বলেন, বেশ কিছুদিন হলো কোম্পানির লোকজন এসব ওষুধ সাপ্লাই দিচ্ছেন না। আমরা একাধিকবার অর্ডার দিয়েও ওষুধ পাচ্ছি না। কোম্পানির লোকজন বলছেন, সাপ্লাই না থাকায় ওষুধ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। চৌগাছার ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খালেকুজ্জামান ভোলা বলেন, ওষুধের সংকট এটি আমি বিশ^াস করি না। সারা দেশে ঠাণ্ডা জ্বরে সংশ্লিষ্ট ওষুধের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো ঠিকমত ওষুধ দিতে পারছে না। যে কারণে ওইসব ওষুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজারও স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ওষুধ হঠাৎ মার্কেট থেকে উধাও, আবার অনেক ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীসহ উপজেলার সচেতনমহল।

ভাগ