শ্যামনগর (সাতীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতীরার শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পাঁচটি গ্রাম পাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে গাবুরা ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া এলাকায় পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ায় স্থানীয়রা বিকল্পভাবে রিংবাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার না করায় কয়েক মাস যেতে না যেতে গত বৃহস্পতিবার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও ঢেউয়ের আঘাতে আবারো ২০০ ফুট জায়গা জুড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে ৬ টি স্থান দিয়ে পুনরায় কপোতাক্ষ নদীর লোনা পানি ভিতরে ঢুকে ৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় কয়েকশ’ পরিবার আর ভেসে গেছে কয়েকশ’ একর জমির চিংড়ি ঘের। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদের পানি গাবুরা ইউনিয়নে ঢুকে উঠানামা করে। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় বিকপ্ল রিংবাঁধ দিয়ে পানি বন্ধ করা হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রিংবাঁধ সংস্কার না করায় নিম্নচাপে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ঢেউয়ের আঘাতে বৃহস্পতিবার রিংবাঁধের ৬ টি স্থান ভেঙে পানি ঢুকে লেবুবুনিয়া,লক্ষীখালী,খলিসাবুনিয়া, গাইনবাড়ি ও গাবুরা পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে কয়েকশ একর চিংড়ির ঘের। তিনি আরো জানান, শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত রিংবাঁধ মাটি দিয়ে বাঁধা হলেও দুপুরের জোয়ারের পানি ও ঢেউয়ের আঘাতে আবারো তিন জায়গা ভেঙে ভিতরে পানি ঢুকছে। তবে পানি বন্ধের চেষ্ট অব্যাহত আছে। গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, লেবুবুনিয়ায় রিংবাঁধটি ভেঙে পুনরায় নদের পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ভাঙনকৃত স্থান মেরামতের জন্য জিওব্যাগ, বাঁশ ও প্রয়োজনীয় মালামাল ভাঙন কুলে পৌঁছে গেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনম আবুজর গিফারী বলেন, গাবুরার লেবুবুনিয়ার ভাঙনকৃত স্থান মেরামতের জন্য দুই হাজার জিওব্যাগ জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে।





