৭০০ কোটি ডলারের রফতানি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ ভারত

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ভারতের রফতানি আয়ের অন্যতম একটি উৎস সি ফুড বা সামুদ্রিক খাবার। বিশেষত বিভিন্ন জাতের প্যাকেটজাত হিমায়িত মাছ, চিংড়ি রফতানি করে দেশটি প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সি ফুড রফতানি করে ৭০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ভারত সরকার। তবে অর্থবছর শেষে এ লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এ সময় ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সি ফুড রফতানির পরিমাণ ও এ বাবদ দেশটির আয় দুটোই কমেছে। ভারতের মেরিন প্রডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এমপিইডিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরবিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইকোনমিক টাইমস।
এমপিইডিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজার সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১ টন সি ফুড রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটি থেকে মোট ১৩ লাখ ৯২ হাজার ৫৫৯ টন সি ফুড রফতানি হয়েছিল। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভারত থেকে সি ফুড রফতানি কমেছে ১ লাখ ২ হাজার ৯০৮ টন।
২০১৯-২০ অর্থবছরে সি ফুড রফতানি করে ভারতীয় রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ৬৬৮ কোটি ডলার আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে এমপিইডিএ, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ৭৪ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটির রফতানিকারকরা সি ফুড রফতানি বাবদ মোট ৬৭৩ কোটি ডলার আয় করেছিলেন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সি ফুড রফতানি করে ভারতের আয় কমেছে ৫ কোটি রুপি।
এমপিইডিএর চেয়ারম্যান কেএস শ্রীনিবাস জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত থেকে সব মিলিয়ে ৭০০ কোটি ডলারের সি ফুড রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিল। তবে এ লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। অর্থবছর শেষে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে লক্ষ্যের তুলনায় ৩২ কোটি ডলারের কম সি ফুড রফতানি হয়েছে।
সি ফুড রফতানিতে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার পেছনে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীকে দায়ী করেন শ্রীনিবাস। তিনি বলেন, ভারত থেকে রফতানি হওয়া সি ফুডের বড় ক্রেতা চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। ২০২০ সালের শুরু থেকে এসব দেশ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে ছিল। এ পরিস্থিতিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষের দিকে এসে ভারত থেকে সি ফুড রফতানি অনেকটাই কমে যায়। এর প্রভাব পড়েছে পুরো অর্থবছরের সি ফুড রফতানি বাণিজ্যে।
করোনাকালে রফতানি লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না হলেও ভারতের সি ফুড রফতানি বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বড় হচ্ছে। ভারতীয় রফতানিকারকরা চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের পাশাপাশি জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় সি ফুড রফতানি বাড়াচ্ছেন। এর জের ধরে ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের সি ফুড রফতানি বাণিজ্যের আকার ১ লাখ কোটি রুপিতে (ভারতীয় মুদ্রা) উন্নীত করার লক্ষ্য এগিয়ে নিচ্ছে এমপিইডিএ।
এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত থেকে রফতানি হওয়া সি ফুডের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল হিমায়িত চিংড়ি। এমপিইডিএর তথ্য অনুযায়ী, এ সময় হিয়ায়িত চিংড়ি রফতানি করে ভারতীয় রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ৪৪৮ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছেন, যা দেশটির সি ফুড রফতানি আয়ের ৭৩ দশমিক ২১ শতাংশ।
একই সময়ে অন্যান্য জাতের হিমায়িত মাছ রফতানি করে ভারতীয় রফতানিকারকরা মোট ৫১ কোটি ৩৬ লাখ ডলার আয় করেছেন। ভারতের মোট সি ফুড রফতানি আয়ের যা ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটি থেকে হিমায়িত মাছ রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৪ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। পণ্যটি থেকে ডলারের ভিত্তিতে রফতানি আয় কমেছে ২৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ সময় ভারতীয় রফতানিকারকরা যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে সবচেয়ে বেশি সি ফুড রফতানি করেছেন।