স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের নওয়াপাড়ায় বেসরকারি ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার করার ৮দিন পর মেহেরুন নেছা (৩০) নামে এক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে। অপারেশনের একলেশশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য সহকারী পরিচালক ডাঃ মোঃ মঞ্জুর মুর্শিদ তাকে সিজার করেছিলেন। মৃত মেহেরুন নেছা যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গাবুখালী গ্রামের বখতিয়ার রহমানের স্ত্রী তিনি জানিয়েছেন মেহেরুননেছা গতকাল সকালে নিজ বাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর কর্তব্যরত সেবিকা স্যালাইন ও কটসন ইনজেকশন দেন। এর পরপরই তার মৃত্যু হয়। এর ১৫ মিনিট পর ইন্টার্ন চিকিৎসক তুলি এসে মেহেরুননেছাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বলেন একলেমশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বখতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, নওয়াপাড়া হাসপাতাল রোডের বেসরকারি ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে গত ৮ আগস্ট মেহেরুন নেছাকে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর ডাঃ মোঃ মঞ্জুর মুর্শিদ তাকে সিজার করেন। এ সময় মেহেরুন নেছা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ছাড়পত্র দেয়া হলে স্বজনরা রোগী নিয়ে বাড়িতে যান। ৩ দিনের মাথায় গতকাল (১৭ আগস্ট) অসুস্থ হয়ে পড়েন মেহেরন নেছা। এরপর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পর ওই প্রসুতির মৃত্যু হয়। বখতিয়ার রহমান বলেন, সাড়ে ৪ হাজার টাকার চুক্তিতে ডাঃ মোঃ মঞ্জুর মুর্শিদ মেহেরুননেছাকে সিজার (অপারেশন) করেন। হাসপাতাল ভাড়া ও ওষুধ ক্রয় নিয়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। মেহেরুননেছার অপারেশনকারী ডাঃ মোঃ মঞ্জুর মুর্শিদ একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী পরিচালক। অফিস শেষে খুলনা হতে নওয়াপাড়ায় এসে ওই হাসপাতালে তিনি সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা ও গাইনী রোগীর সিজার করেন। যদিও গাইনী বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি কিংবা এফসিপিএস নেই তার। সার্জারিতে জেনারেল সার্জন ও পিজিটি প্রশিক্ষণ আছে তার।
এ ব্যাপারে ডাঃ মঞ্জুর মুর্শিদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন কাজে যশোরে এসেছি। ঘটনাটি ঠিক মনে পড়ছে না। পরে রোগীর নাম ঠিকানা জানানো হলে তিনি ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলেন। সেখানে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের ম্যানেজার মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, এখানে ৫/৬ জন মালিক। তবে আমার সাথে কথা বললে চলবে। পরে তরিকুল ইসলাম জানান, ডাঃ মঞ্জুর মুর্শিদ সার্জারিতে জেনারেল সার্জন। এছাড়া পিজিটি প্রশিক্ষণ আছে। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, এ হাসপাতালে ওই রোগীর মৃত্যু হয়নি।





