স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরতলীর বিরামপুরের লিটন ওরফে হাঁস লিটন ১৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২৪ জুলাই পুলিশের পোশাক পরিহিত দু’জন ইজিবাইক থেকে নামিয়ে নেয়ার পর থেকে তার হদিস মিলছে না। এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধী হিসেবে এলাকায় পরিচিত এই ব্যক্তিকে আটকের পর নিখোঁজের ঘটনা আইন-শৃঙ্খলার কারণে, নাকি তার প্রতিপক্ষের স্বার্থে ?
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে পুলিশ আটক করেছে বললেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হচ্ছে। মো. লিটন ওরফে হাঁস লিটন সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। লিটনের স্ত্রী জাহানারা খাতুন জানান, গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে সদর উপজেলার তালবাড়িয়া ক্যাম্প পুলিশের এএসআই ওবির উদ্দীন লিটনকে উপশহর ঘোপ বাবলাতলা থেকে ধরে নিয়ে যান। ওই সময় এএসআই ওবিরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে হাঁস লিটনকে আটকের বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসির সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ২৯ জুলাই যশোর কোতয়ালি থানায় জিডি করতে যান লিটনের স্ত্রী জাহানারা খাতুন। জাহানারা খাতুন বলেন, তিনি জিডি করতে গেলে তাকে থানা থেকে পাঠানো হয় স্থানীয় উপশহর পুলিশ ফাঁড়িতে। থানা থেকে ওই ফাঁড়ির এসআই সেকেন্দারকে জিডির বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় তদন্তে লিটনের বাড়িতে যান এসআই সেকেন্দার। তার স্ত্রীর মুখ থেকে ঘটনা শুনে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে কারাগারে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। কারাগারে খোঁজ নিয়ে লিটনকে পাননি বলে জানান জাহানারা খাতুন। তিনি আরও বলেন, যে ইজিবাইকে করে লিটন শহরে যাচ্ছিলেন তার চালক হানিফ জানিয়েছে পোশাক পরা দুই পুলিশ তাকে ধরে সাদা পোশাকের দুই ব্যক্তির কাছে তুলে দেয়। এর আগে পোশাক পরা দুই পুলিশসহ ওই চারজনকে লিটনের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এরপর লিটন বাড়ি থেকে বেরিয়ে ইজিবাইকে করে ঢাকা রোড বাবলাতলার কাছে পৌঁছালে তাকে আটক করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সাদা পোশাকের কিছু ব্যক্তি লিটনের বাড়ির আশেপাশে, কখনও বাড়ির ভিতরে ঢুকে ঘোরাফেরা করতো। এ কারণে লিটন গত জুন মাসের শেষের দিকে বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগান।
লিটনের স্ত্রী বলেন, সম্প্রতি লিটন কোন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। তার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো আছে তা থেকে জামিনে ছিলেন তিনি। এছাড়া সে এমন কোন অপরাধ করেননি যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু উপশহর ও বিরামপুরে তার প্রতিপক্ষ রয়েছে। এই ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তারা পুলিশকে ব্যবহার করেছে কিনা তা নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। লিটনের স্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার স্বামী যদি কোন অপরাধ করে থাকে তাকে কারাগারে দেয়া হোক। আমি তাকে অক্ষত অবস্থায় দেখতে চাই।’ এ বিষয়ে সহায়তা চেয়ে তিনি গত ১০ আগস্ট খুলনায় পুলিশের ডিআইজি অফিসে একটি আবেদন করেছেন। কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে জানান, তারা হাঁস লিটন নামে কাউকে আটক করেননি। একই কথা বলেছিলেন গত ২৪ জুলাই রাতে ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি মারুফ আহম্মদও।




