চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ও লোকসমাজ ডেস্ক ॥ চুয়াডাঙ্গায় ও ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন চুয়াডাঙ্গায় ও ময়মনসিংহে ৭ জন। দু’টি দুর্ঘটনায়ই ঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত বেপরোয়া গতির বাস।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রয়েল এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় শনিবার সকাল ৬ টার দিকে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার যুগীরহুদা গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে সরোজগঞ্জ বাজারের চায়ের দোকানদার নিজাম ও বাজারের আতর আলী মার্কেটের স্বত্বাধিকারি মিজানুর রহমান জানান, সকালে হঠাৎ রয়েল এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ সময় বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা বরফবোঝাই গাড়ির চালকসহ আলমসাধু, রিকশাভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাধারণ মানুষকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে চুয়াডাঙ্গার দিকে চলে যায়। বাসটির চাপায় ঘটনাস্থলে ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান সদর উপজেলার খাড়াগোদা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক সদর উপজেলার মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মিলন (৩৫), বসু ভান্ডারদহ গ্রামের নিতাই হালদারের ছেলে ষষ্টি হালদার (৪০), তিতুদহ গ্রামের প্রিয়ত আলীর ছেলে রাজু আহমেদ (৩০), একই গ্রমের রহিম মল্লিকের ছেলে শরিফুল (৪৫), হায়দার আলীর ছেলে কালু মণ্ডল (৩৫) ও নুতার ছেলে সোহাগ মণ্ডল (২৫)। আহত হন সরোগঞ্জ বাজারের বজলুর ছেলে বাবলু (৪৫), তিতুদহ গ্রামের মরহুম তৈয়ব আলীর ছেলে আলমগীর (২৭), একই গ্রামের জুড়ান মন্ডলের ছেলে বেল্টু (৩০) ও জুম্মা গ্রামের খোদা বক্সের ছেলে আকাশ (২৫)। এর মধ্যে গুরুতর আহত বাবলুকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কান্তি দাস বলেন, রয়েল এক্সপ্রেসের ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২১৬১ যাত্রীবাহী বাসের চালক যে দুর্ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাতে ৬ জন মারা গেছেন। নিহতদের স্বজনরা কেউ যদি মামলা করে তবে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তারা মামলা না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর দায়ে মামলা করবে।
অপরদিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার মানকোন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন টাঙ্গাইলের নয়াপাড়া গ্রামের নূর ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (৩২), তাদের মেয়ে লিজা আক্তার (১২), টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার সোলাকুড়ি গ্রামের সাইদুল ইসলাম (৫৫), নজর মিয়া (৬০), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মলাজানি গ্রামের নজরুল ইসলাম (৩৫), একই উপজেলার চেচুয়ার বাসিন্দা অটোরিকশা চালক আলাদুল মিয়া (৩২)। এরা সবাই অটোরিকশার আরোহী। পুলিশ কর্মকর্তা আল আমিন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী রাজিব পরিবহনের একটি বাস বিকাল সোয়া ৪টার দিকে মানকোন এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাটি জামালপুর থেকে ময়মনসিংহে যাচ্ছিল। “এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হন। আহত তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।” নিহতদের লাশ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। বাসটিকেও আটক করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।





