চৌগাছার ১শ ৪ জন গ্রাম পুলিশর ২ বছরের বেশী থানা হাজিরার টাকা বকেয়া!

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) যশোরের চৌগাছা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের ১শ ৪ জন গ্রাম পুলিশ সদস্যের ২ বছর ৪ মাসের থানা হাজিরার টাকা বকেয়া রয়েছে। আর্থিক অনাটনে দিন কাটছে তাদের।
জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের সোমবার উপজেলার সকল ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশদের থানা পুলিশ প্রশাসনের নিকট হাজিরা দিতে হয়। এদিন থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। কোন গ্রাম পুলিশ যেন হাজিরায় অনুপিস্থত না থাকে সে কারণে তাদের বেতনের একটা অংশ এই হাজিরার সাথে দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রতিদিন হাজিরার জন্য তাদেরকে তিনশ টাকা করে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন ভুমি উন্নয়ন কর থেকে আয়ের ১% হারে যে টাকা পান সেখান থেকে গ্রাম পুলিশের এই হাজিরার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে অনেক কিছু করা হলেও ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে গ্রাম পুলিশদের হাজিরার টাকা বকেয়া রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাম পুলিশ জানান, মাসে কমপে চার দিন হাজিরায় একজন গ্রাম পুলিশের মাসে পাওনা হয় ১ হাজার দুইশ টাকা। যে মাসে ৫ দিন সোমবার হয় সে মাসে পাওনা হয় ১ হাজার পাঁচশ টাকা। প্রতিমাসে কমপে ১ হাজার ২শ টাকা পাওনা হলে ২৮ মাস হিসেবে একজন গ্রাম পুলিশের সর্বনিন্ম পাওনা হয় ৩৩ হাজার ৬শ টাকা। সেই হিসেবে উপজেলার ১শ ৪ জন গ্রাম পুলিশের ২৮ মাসের সর্বনিন্ম বকেয়া বেতনের পরিমান কমপে ৩৫ লাখ টাকা।
যশোর জেলা শাখার গ্রাম পুলিশ ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ স¤পাদক ও চৌগাছা উপজেলা শাখার সভাপিত রেজাউল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের ১% এর টাকা দিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও আমরা দরিদ্র মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সরকারি দায়িত্ব পালন করি। অথচ আমাদের হাজিরার টাকা বছরের পর বছর বকেয়া রাখা হয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা সারাদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করি আবার রাতে থানা পুলিশের সাথে কাজ করি, এছাড়া উপজেলা পরিষেদর বিভন্ন নির্দেশনাও আমাদেরকে পালন করেত হয় তারপরও আমাদের বেতন বকেয়া রাখা হয় যা খুবই দু:খজনক।
নাম প্রকাশ না করে একজন গ্রাম পুলিশ বলেন, মাসে বেতন পাই যৎসামান্য। তারপরও বকেয়া থাকে। উপেজলা পরিষদের কারো বেতন বাকি থাকেনা অথচ আমাদের বছরের পর বছর বেতন বাকি থাকে। আমাদের দিয়ে সবাই কাজ করিয়ে নেন। কিন্তু চেয়ারম্যান স্যার, ওসি স্যার, ইউএনও স্যার, ইঞ্জিনিয়ার স্যার কেউ আমাদের খবর রাখেন না। আমরা ছাড়া আর কারও বেতনও বেকয়া থাকে না।
এ ব্যাপারে জানেত চাইলে ১% থেকে বেতন প্রদান কমিটির উপজেলা সদস্য সচিব ও চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, কত বাকি আছে তা আমি জানিনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আজই খোঁজ নিয়ে দেখছি।

ভাগ