যশোরে করোনা ওয়ার্ডে আরও তিনজনের মৃত্যু : সিভিল সার্জনসহ আক্রান্ত ১৬

বিএম আসাদ ॥ করোনার উপসর্গ নিয়ে যশোরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার রাতে প্রায় ৪ ঘন্টার ব্যবধানে হাসপাতালের কারোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, যশোর জেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছেন, করোনা পুরুষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে আলী হোসেন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। ১১ জুলাই দুপুর ২টা ১০ মিনিটে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত আলী হোসেনের বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামে। এর ১ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে রাত ১২টা ১০ মিনিটে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আব্দুল হালিম (৫৪), তার বাড়ি যশোর শহরের বড় বাজার এলাকায়। ১১ জুলাই রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে হাসপাতালের করোনা পুরুষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। রাত ৭টা ৩০ মিনিটে করোনা মহিলা আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান শর্মিলা মজুমদার (৫০) নামে এক নারী। শর্মিলা মজুমদার শহরের বেজপাড়া এলাকার মৃত মানস মজুমদারের স্ত্রী। ১১ জুলাই সকাল ৯টা ২০ মিনিটে করোনার উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত ৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের আরএমও ডা. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, করোনার কোন চিকিৎসা নেই। রোগের উপসর্গ দেখে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। যারা আইসোলেশনে ভর্তি হচ্ছেন তারা মূলত অক্সিজেন নেয়ার জন্য আসছেন। শ্বাসকষ্ট থেকে বাঁচার জন্যে অক্সিজেন নিতে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আসছেন। গতকাল যশোরে আক্রান্ত হয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন (৪৫)সহ ১৬ জন। ডা. শেখ আবু শাহীন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত জেলা কমিটির সদস্য সচিব। ১১ জুলাই তিনি নমুনা দেন। পরীক্ষা শেষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টার থেকে ৩৪টি রিপোর্ট আসে। তার মধ্যে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন একজন। বর্তমানে তিনি সিভিল সার্জনের বাংলোতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন। কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদকে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেন। যশোরে অপর যে ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা হচ্ছেন- যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের স্ত্রী নিশি (২৬), তার আত্মীয় ৬ বছরের এক শিশুকন্যা গৃহপরিচারিকা খুকুমনি (৩৫), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী অভয়নগরের ফারজানা মিনতি (২৩), ১৬ বছর ব্য়সের এক স্কুলছাত্র, গৃহকর্মী আছর আলী (৬০), সদরের আশরাফ আলী (৭১), পালবাড়ী এলাকার গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম (৪০), ঝুমঝুমপুরের স্বর্ণকার সুমন চৌধুরী (১৮), শংকরপুর চোপদারপাড়ার গৃহবধূ লাকী আক্তার (৪০), গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম (৪০) ও ঝাউডাঙ্গা, সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম (৬০), করোনাভাইরাস সন্দেহে গতকাল যশোর সিভিল সার্জন অফিস ৯৯টি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছেন বলে এমওসিএস ডা. রেহনেওয়াজ জানিয়েছেন। সিভিল সার্জন অফিসের ৩ জন এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন।

ভাগ