চাতালের দরিদ্র নারী শ্রমিককে এসিডে ঝলসে দিল সাবেক স্বামী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী গ্রামে ধানের চাতালের এক নারী শ্রমিক এসিড দগ্ধ হয়েছেন। জুয়াড়ি, গাঁজাখোর স্বামীকে তালা দেয়ার ১৫ দিনের মাথায় গত শনিবার গভীর রাতে তাকে এসিড ছুঁড়ে মারে। এতে তার শরীরের ৩০ ভাগ ঝলসে যায়।
এসিডদগ্ধ রিনা বেগমকে (৪০) যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিনা বেগম ঝিকরগাছার লাউজানী গ্রামে অবস্থিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের ধানের চাতালে কাজ করেন এবং বড় মেয়ে তহমিনা খাতুনকে নিয়ে চাতালের একটি ঘরে বসবাস করেন। ৩ কন্যা ও একপুত্র সন্তানের জননী রিনা বেগম ছিলেন লাউজানী নওদা গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী।
রিনা বেগম ও তার কন্যা তহমিনা খাতুন জানিয়েছেন, ইলিয়াস হোসেন নিয়মিত গাঁজাসেবন আর তাস খেলা করে। কোন কাজ না করে বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাজ করে ও শারীরিকভাবে অমানুসিক নির্যাতন চালায়। রিনা বেগম যে টাকা উপার্জন করেন ইলিয়াস হোসেন তা ছিনিয়ে নেয় এবং জুয়া খেলে তা শেষ করে ফেলে। এ অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে রিনা বেগম ১৫ দিন আগে স্বামী ইলিয়াস হোসেনকে তালাক দেয়। তালাক দেয়ার পর রিনা বেগম তার বড় কন্যা তহমিনাকে নিয়ে ওঠেন তার কর্মস্থল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের ধানের চাতালে। সেখানেই তিনি বসবাস করছেন। এ ঘটনায় স্বামী ইলিয়াস হোসেন রিনা বেগমের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে ওঠে। গত শনিবার রাত আড়াইটার দিকে রিনা বেগম চাতালের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। এ সময় ইলিয়াস হোসেন প্রাচির টপকে চাতালের ভেতর প্রবেশ করে রিনা বেগমের ঘরে গিয়ে টর্চ লাইট মারে। টর্চ লাইটের আলো দেখে রিনা বেগম চিৎকার করার সাথে সাথে ইলিয়াস হোসেন তার হাতে থাকা এসিড ছুঁড়ে মারে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। ইলিয়াসের ছোঁড়া এসিডে রিনা বেগমের মুখমন্ডল, চোখ, বুক ও দু’হাতসহ শরীরের ৩০ ভাগ ঝলসে যায়। এরপর তার কাছে থাকা মেয়ে তহমিনা খাতুন গুরুত্বর অবস্থায় গতকাল ভোর ৫টা ১০ মিনিটে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সকালে যশোর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নূর কুতুবুল আলম তাকে চিকিৎসা দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন। কিন্তু অর্থাভাবে স্বজনরা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে পারেননি। হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন এসিডদগ্ধ নারী শ্রমিক রিনা বেগম। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। ওয়ার্ডের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. নুর কুতুবুল আলম জানিয়েছেন, রিনা বেগমের অবস্থা খারাপ। তার শরীরের শতকরা ৩০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। দু’চোখের অবস্থা আরও খারাপ। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দিতে না পারলে অন্ধ হয়ে যাবে। আর চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্র যত দেরি হবে ততই ইঞ্জুরির ভাগ আরও বেশি হবে। তাই, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাকে দ্রুত ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। তার শরীরে ছুঁড়ে মারা তরল পদার্থ এসিড মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এনকে আলম।

ভাগ