লোকসমাজ ডেস্ক॥আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন? শশাঙ্ক মনোহর দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই নানা জল্পনা কল্পনা। অনেকের নামই আসছে। তবে লোকসম্মুখে এখনও কোনো কর্মকর্তা চেয়ারম্যান হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেননি। এবার সেটা করলেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যামেরুন।
যদিও এই জ্যামাইকানকে তার বোর্ড মনোনয়ন দেবে কি না, সেটি নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা। তবে ক্যামেরুন এই পদে লড়তে চান, যদি না সৌরভ গাঙ্গুলি নিজের নাম এখানে জুড়ে দেন। আগামী সপ্তাহেই আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে একটা নির্দেশিকা আসার কথা। তবে এই বিষয়টি নিয়ে খুব তাড়াহুড়ো করতেও রাজি নয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। চলতি মাসের শেষদিকে কেপটাউনে বার্ষিক সভা হওয়ার কথা। সেখানে একটা সিদ্ধান্ত হতে পারে। গত ১ জুলাই পদত্যাগপত্র জমা দেন শশাঙ্ক মনোহর। আপাতত তার পদত্যাগের পর দায়িত্ব পালন করছেন সংস্থাটির ভাইস-চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনিই সব কিছু দেখভাল করবেন।
আইসিসির নতুন চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে দুজনকে। একজন হলেন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস, অপরজন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। ৪৯ বছর বয়সী ক্যামেরুন ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চেয়ারম্যান পদে লড়তে আগ্রহী ক্যামেরুন অকপটেই স্বীকার করলেন, সৌরভ মনোনয়ন নিলে তার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। ক্যামেরুন বলেন, ‘মেনে নিতেই হবে, গাঙ্গুলির সঙ্গে আমার কোনো তুলনা চলে না। যদি ‘দাদা’ শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হন, তবে এশিয়ার সমর্থন পাবেন। এই খেলাটায় তিনি যা করেছেন, তাকে দুর্দান্ত চরিত্রের একজন মানুষ মনে করা হয়। তবে তিনি যদি না লড়েন, তবে আমার জন্য বড় সুযোগ থাকবে।’ শুক্রবার জ্যামাইকা থেকে ফোনের মাধ্যমে গালফ নিউজের সঙ্গে এক এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউয়ে এমন কথা বলেন ক্যামেরুন। চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যহতি নেয়া শশাঙ্ক মনোহরেরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন তিনি। ক্যামেরুন মনে করেন, ভারতের একজন হয়েও মনোহর যেভাবে ‘বিগ থ্রি’ তথা তিন মোড়ল তত্ত্ব (ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার হাতে কর্তৃত্ব) বিলুপ্ত করেছেন, সেটা প্রশংসার দাবি রাখে। ক্যামেরুন বলেন, ‘আমি তাকে (মনোহর) আদর্শভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানাই। যদি বোর্ডে ভিন্ন ভিন্ন মত তৈরি হতো, তিনি সবসময় চাইতেন আমরা যাতে সিদ্ধান্তের অংশ হই।’ ক্যারিবীয় ক্রিকেটের সাবেক কর্তা যোগ করেন, ‘আমি একটা তত্ত্বে বিশ্বাস করি, যদি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আপনাকে সবাই পছন্দ করতে শুরু করে, তবে কিছু একটা ভুল হচ্ছে। আবার যদি সবাই ঘৃণা করতে শুরু করে, তবেও আপনি সঠিক কাজটি করছেন না। আমি অবশ্য ২২ বছর বয়স থেকেই ব্যবসা দেখাশোনা করি। ম্যান-ম্যানেজম্যান্টের অভিজ্ঞতা আমার যথেষ্ট।’





