মাসুদ রানা বাবু ॥ করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট ডেকোরেটর ও কমিউনিটি সেন্টারের মালিক-শ্রমিক-কর্মচারীরা। আয়-উপার্জন না থাকায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একে একে বন্ধ হয়ে যায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ গণপরিবহনসমূহ। সামাজিক, পারিবারিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওপর থাকে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা। যে কারণে বন্ধ হয়ে যায় কমিউনিটি সেন্টার, ডেকোরেটরের মতও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো। বিবাহ, জন্মদিন, সুন্নাতে খাত্না, হালখাতা, পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গেট, প্যান্ডেলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র দিয়ে অনুষ্ঠান দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়। উচ্চবিত্ত পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানেও প্রয়োজন হয় ডেকোরেটর সামগ্রীর। এ সকল অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নের খাবার তৈরিতে প্রয়োজন হয় সুদক্ষ বাবুর্চির। পাশাপাশি পরিবেশনের জন্য প্রয়োজন হয় অভিজাত ক্যাটারস। করোনাকালে সকল অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, করোনায় দেশে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি অফিস-আদালতের পাশাপাশি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খোলা গণপরিবহন চলাচলে অনুমতি দেয়া হয়। এমনকি, স্থগিত হওয়া দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও দিন ধার্য করা হয়েছে। অথচ, এখনো পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি সামাজিক, পারিবারিক বা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের। এই সকল অনুষ্ঠানের ওপর নির্ভর করেই চলে কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটরের ব্যবসা। এর থেকে অনেক শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়।
জানা গেছে, যশোর শহরে কমিউনিট সেন্টার রয়েছে ১২টি। ডেকোরেটর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আছে ১০০টি। পাশাপাশি আলোকসজ্জা, গেট, প্যান্ডেল নির্মাণসহ রান্না বান্না ও পরিবেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কয়েক হাজার। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মালিক-শ্রমিক উভয়ে আছেন সীমাহীন কষ্টে। একদিকে, মালিকদের পূর্বের সঞ্চিত অর্থ থেকে ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন দিতে হতো। অপরদিকে, এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শ্রমিক বা কর্মজীবী মানুষ পুরোপুরিভাবে কর্মহীন হয়ে পরিবারের জন্যে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালে সরকার ঘোষিত ব্যবসায়িক প্রণোদনা পাননি বলে মালিকপক্ষের অভিযোগ। শ্রমিকদের অভিযোগ তারাও কোন সাহায্য সহায়তা পাননি।
এ বিষয়ে জেলা কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির আহ্বায়ক হাবিবুল রহমান রুবেল বলেন, চাকরিজীবীর বেতন বন্ধ হয়ে গেলে তার অবস্থা কেমন হয় একমাত্র সেই ভালো জানে। আমাদের অবস্থাও ঠিক সে রকম। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা কঠিন অবস্থার মধ্যে আছি। তিনি বলেন, আমরাও লকডাউনের পক্ষে, তবে সবকিছু চালু হলে আমাদেরটা কেন বন্ধ থাকবে ?
একই বিষয়ে জেলা ডেকোরেটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী কদর বলেন, প্রায় চারমাস ধরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় নেই কোন আয়-উপার্জন। তার মধ্যেও ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ চালাতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট পরিসরে হলেও অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হোক।




