যশোরে একদিনে করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু

বিএম আসাদ ॥ যশোরে গতকাল করোনাভাইরাস নিয়ে আরও দু’জন মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬ জন। সিভিল সার্জন অফিসের হিসেবে মৃত্যু সংখ্যা ১৪ জন। এদিকে, যশোর শহরে করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১শ’ ৮০ জন কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। যশোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার্ধীন অবস্থায় তাপস সাহা (৫২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে খুলনায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাপস সাহার বাড়ি শহরের বেজপাড়ায়। এইচএমএম রোড কালীবাড়ি এলাকায় তার মুদির ব্যবসা রয়েছে। এর আগে ৪ জুলাই ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ডা. আমজাদ হোসেন (৬০), ২৭ জুন সংগ্রহকৃত নমুনায় তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। ১ জুলাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। আমজাদ হোসেনের বাড়ি শার্শার বেনাপোলে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। তার জন্মস্থান ফরিদপুরে। চাকরির সুবাদে তিনি বেনাপোলে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এর আগে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রমণে। ২৭ জুন বেজপাড়ার হারান সাহা (৭০), একই তারিখে নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৬৩), ২৬ জুন পুরাতন কসবার শামীমুর রহমান (৪০), ২৯ জুন উপশহরের ই-ব্লকের লুৎফর রহমান (৮২), ২৩ জুন সদর উপজেলার রূপদিয়ার চাউলিয়া গ্রামের খালেক গাজী (৩৫), ২২ জুন ছাতিয়ানতলা গ্রামের ওহাব আলী (৭০) মারা যান। ২৫ জুন শার্শার বেনাপোলে ছোটআঁচড়া গ্রামের আবুল খায়ের (৭৫), একই তারিখে বেনাপোলের মমিনুর রহমান (৭৫), ২২ জুন শার্শার নারায়ণপুরের জাকির হোসেন (৫৫), ১১ জুন হরিশচন্দ্রপুরের ইয়াকুব আলী (৫৫), ২১ জুন অভয়নগরের ধুলগ্রামের বিমলেন্দু চক্রবর্তী (৬৫), ২৩ জুন নওয়াপাড়ার সাবেক ফুটবলার বেলাল হোসেন (৫৩), ১৫ জুন অভয়নগরের আনিছুর রহমান আনিছ (৬৫) ও ৬ জুন নওয়াপাড়ার শিল্পপতি, আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন (৭৫) মৃত্যুবরণ করেন। বেলাল হোসেনের মৃত্যু ঢাকায় তালিকাভুক্ত হওয়ায় সিভিল সার্জন অফিস থেকে তার নাম যশোরের মৃত তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। অন্যদিকে, বাড়িতে মৃত্যু হওয়ায় ইয়াকুব আলীর নাম বাদ পড়ে সিএস অফিসের মৃত তালিকা থেকে।
এদিকে, গতকাল বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে দু’জন মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তিরা হলেন- যশোর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড বারান্দীপাড়ার বদরুদ্দিন (৬৫) ও ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের আব্দুর রাজ্জাক (৭২)। করোনা উপসর্গ নিয়ে বদরুদ্দিনকে ৪টা ৩৫ মিনিটে ও আব্দুর রাজ্জাককে ১২টা ৩৫ মিনিটে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা মারা যান।
সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ৪ জুলাই পর্যন্ত যশোরে ৭শ’ ৪২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের দিক দিয়ে যশোর পৌরসভার পরিস্থিতি ভয়াবহ। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আক্রান্ত হয়েছেন ১শ’ ৮০ জন। যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানিয়েছেন, ওয়ার্ডভিত্তিক করোনায় আক্রান্ত এলাকার মধ্যে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এ ওয়ার্ডে ৩৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ৩ নং ওয়ার্ড ঘোপ এলাকা। এ ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ জন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ৪ নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে ২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চতুর্থ অবস্থানে ৮ নং ওয়ার্ড। ওই ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ জন। পঞ্চম অবস্থানে ৬ নং ওয়ার্ড। সেখানে ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ষষ্ঠ অবস্থানে ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ড। এ দু’টি ওয়ার্ডে ১৪ জন করে ২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সপ্তম অবস্থানে ১ নং ওয়ার্ডে ১০ জন ও অষ্টম অবস্থান ২ নং ওয়ার্ডে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ভাগ