এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হতাশায়

আকরামুজ্জামান ॥ করোনা পরিস্থিতির কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি) নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। অন্যান্য বছরে এপ্রিল, মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা হলেও এ বছর কবে নাগাদ হবে তা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারছে না। ইতিমধ্যে সরকার সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে তারাও অন্ধকারে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি বা আভাসও পাওয়া যায়নি। যে কারণে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম হতাশায় ভুগছেন।
যশোর সরকারি এম এম কলেজের এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিয়া নুসরাত টুম্পা। এ বছর তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এখনো তা সম্ভব হয়নি। তার সব হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে। নাজিয়া নুসরাত টুম্পা জানান, পরীক্ষার জন্য ভালই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ইচ্ছা ছিল এপ্রিলে পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য প্রস্তুতি শুরু করবো। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাস সে স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ করে দিল। এখন বাসায় চার দেয়ালে বন্দি থেকে পড়াশোনায় আর মন লাগে না। এ অবস্থায় সামনে কবে পরীক্ষা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছি। একই কথা বলেন, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইশা। পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য তার প্রস্তুতিরও কমতি ছিল না। কিন্তু মাঝপথে করোনাভাইরাস তার সব প্রস্তুতি ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। এখন কবে পরীক্ষা হবে সেই চিন্তায় আছেন ইশা। তিনি জানান, অন্যান্য বছরে সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারলাম না। জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে যাবে কীনা সে চিন্তা তাকে কুরে খাচ্ছে। তার মতে, করোনাকালে যেহেতু সবধরনের মাধ্যম স্বাভাবিক হয়ে আসছে সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলেও এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিৎ।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। যশোর উপশহর এফ ব্লকের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে সরকারি এমএম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা এখনও সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মনে করেছিলাম জুন-জুলাই মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন দেখছি সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়েছে। সঙ্গত কারণে এখন মনে হচ্ছে সহসা আর এইচএসসি পরীক্ষা হবে না। তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন ভীষন চিন্তায় আছি। শহরের আরএন রোড এলাকার ষাটোর্ধ বৃদ্ধ আসমত আলী নামে আরেক অভিভাবক বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময় ছাড়া এভাবে টানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেখিনি। এখন করোনাকালে এসে তা দেখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার নাতি ছেলে যশোর সিটি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে তা থমকে আছে। কবে পরীক্ষা হবে তা কেউই বলতে পারছে না। তিনি বলেন, সরকারের উচিৎ যে কোন উপায়ে পরীক্ষার আয়োজন করা। এ বিষয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ এইচএসসি পরীক্ষা হবে তার এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, আপাতত যা মনে হচ্ছে তাতে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক না হলে পরীক্ষার আয়োজন করা সম্ভব হবে না। যে কারণে সেই পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতে হবে।

ভাগ