স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসায় গত তিন মাসে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে এক সপ্তাহে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। হোটেল ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে এ ব্যয় হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনা প্রতিরোধ কাজে স্বাস্থ্য মন্ত্রালয় থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। গত এপ্রিল মাস হতে করোনা প্রতিরোধে গঠিত জেলা কমিটির তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ, মেডিকেল কলেজ ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ অন্যান্য বিভাগ সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছে। করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে ইতিমধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। খাবার ও হোটেল ভাড়া বাবদ ব্যয় হয়েছে মোটা অংকের টাকা।
সূত্র মতে, ৩০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করার পর এক সপ্তাহের বিল হয়েছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৭শ’ ২ টাকা। খাবার খরচ বাবদ ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা, হোটেল ভাড়া বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার ৭শ’ ২ টাকা ও রোগী বহনের গাড়ি ভাড়া বাবদ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
করোনাখাতে আর টাকা না থাকায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৭শ’ ২ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা আইসিটি পার্কের টেক্স সিটিতে ২২ জুন হতে ২৪ জুন পর্যন্ত তিন দিনে ২৩ জনের। থাকা-খাওয়া যাতায়াত খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। করোনা সংক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে যে সকল চিকিৎসক ও সেবিকা চিকিৎসাসেবা দেন, তারা এ টেক্স সিটিতে অবস্থান করেন। প্রতিদিন জনপ্রতি খাবার বরাদ্দ ৫শ’ টাকা। হোটেল ভাড়া প্রতিদিন জনপ্রতি ৯শ’ ৪২ টাকা এবং গাড়িভাড়া বাবদ প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা। হোটেল আরএস টাওয়ারে থাকেন করোনা সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত কর্মচারীরা। তাদের জন্যে এ আবাসিক হোটেলে ডবল রুম ৫শ’ ৩০ টাকা ও সিঙ্গেল রুম ৩শ’ ৫৫ টাকা। সেখানে হোটেল ভাড়া বাবদ ২১ জুন হতে ৩০ জুন ১০ দিনে বিল হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। সব মিলে ৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বিল হয়েছে। চিকিৎসক, কর্মচারীদের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত খাতে এতো টাকা খরচ হলেও কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা কতটুকু চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে রোগীর অভিভাবকদের রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতাল আইসোলেশনেও রয়েছে একই অভিযোগ। হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন থাকা রোগীরাও পায় না তেমন সুবিধা। লকডাউন আটকে পড়া রোগীদেরও তেমন সুবিধা দেয়া হয় না। তবে মাঝেমধ্যে কেউ খাবারের বা কোন সংকটের কথা জানালে প্রশাসন থেকে তা মিটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যশোরের এনডিসি প্রতীম সাহা বলেন, করোনায় আক্রান্ত যদি কেউ তাদের কাছে ফোন করে সুবিধা-অসুবিধার কথা জানান, তাহলে প্রশাসন থেকে সমাধান করার চেষ্টা করা হয়। এ পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। অর্থ বছর শেষ হওয়ায় বাকি বিল পরিশোধ হয়নি। প্রসেস অনুযায়ী নতুন অর্থবছরে বিল পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, বিল সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু বলতে পারেন না। কারণ তাদের কাছে টাকা আসছে না। তারা শুধু কাজ করেন। এ টাকা হাসপাতালের মাধ্যমে আসে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, ৩০ লাখ টাকা এসেছিল। করোনা সংক্রান্ত জেলা প্রশাসনের কমিটি আছে। ওই কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা খরচ বাবদ ৩০ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন। বাকি কিছু বিল আছে। টাকা আসলে তা দেয়া হবে।





