যশোরে করোনা উপসর্গে আরও একজনের মৃত্যু : আ.লীগ নেতা বিপুলসহ আক্রান্ত ৩৯

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে গতকাল আওয়ামী লীগ নেতা ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বিপুল তার স্ত্রী টগর মাহমুদ (৪০) ৫ বছরের শিশু হাসপাতালের নার্সসহ আরও ৩৯ জন করোনাসহ আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে যশোরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৭শ’ ৪০ জন। এদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতাল আইসোলেশন ওয়ার্ডে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত জগদিশ চন্দ্র সরকারের (৬৫) বাড়ি বোনপোলে। তিনি ছিলেন হার্টের অপারেশন করা রোগী। এ অবস্থায় জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ৮টার দিকে জগদিশ চন্দ্র সরকারের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে করোনা সন্দেহে তার নমুনা নেয়ার পর স্বজনরা সৎকারের জন্য লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর সিরাজুল ইসলাম (৬৫), হারান সাহা (৭০), শামীমুর রহমান (৪৫), খালেক গাজী (৩৫) ও ওহাব আলীর (৭০) রিপোর্ট পজেটিভ আসে। শহরের বারান্দীপাড়ার বৃদ্ধা রওশন আরা (৭০)সহ বাকী ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসে।
এ ওয়ার্ডে ৪৮ জন রোগী বিভিন্ন সময় পালিয়ে গেছেন। গতকাল করোনায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ভেতর ৩৮ জনের রিপোর্ট আসে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। মোট রিপোর্ট আসে ১শ’ ২৭টি। খুলনা থেকে আরও ১টি নমুনা পরীক্ষার পজেটিভ রিপোর্ট আসে। ফলে, একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯ জন। আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭শ’ ৪০ জন। এর ভেতর আক্রান্তের সংখ্যা যশোর সদরে সবচেয়ে বেশি। সদর উপজেলায় ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। অভয়নগর ও শার্শা উপজেলায় ৬ জন করে ১২ জন, ঝিকরগাছায় ৪ জন ও কেশবপুরে ১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সদর উপজেলায় আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও তার স্ত্রী ছাড়াও যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউটের নার্সিং সুপারভাইজার রোকসানা আক্তার (৫৭) ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শান্তা ইসলাম (২২), সদর উপজেলার আমদাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ, উপশহর বি-ব্লকের ইজুর আলী (৫১), যশোর পুলিশ লাইন সদর ফাঁড়ির এসআই কাইয়ুম মুন্সি (৫২), পুলিশ কনস্টেবল ঘোষপাড়ার ওসমান আলী (৫০), নীলগঞ্জের ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী (৫০), গৃহবধূ তাসলিমা (৪০), বেজপাড়ার তাপস সাহা (৫৬), আল্পনা সাহা (৫০), রেলগেটের ব্যবসায়ী সেলিম আক্তার (৪৮), ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ (৬২), গৃহবধূ জান্নাত আরা (৪৫), ১৬ বছরের এক কলেজছাত্র, ব্যবসায়ী রাসেল (৩০), সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের ইব্রাহিম (৩১), ফতেপুরের ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্র, ব্যবসায়ী সুমন (৩৭), ঢাকায় চিকিৎসাধীন নীলগঞ্জের অচিন্ত কুমার সাহা (৪৫), সদরের ২৫ বছরের এক কলেজছাত্র, গৃহবধূ আমিনা বেগম (৪০), ৫ বছরের এক শিশুছাত্রী, ঝিকরগাছার ব্যবসায়ী বিজন কুমার পরামানিক (৪০), অভয়নগর প্রেসবাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহবুব হোসেন (৬৫), প্রফেসরপাড়ার গৃহবধূ তুলি আকতার (২৩), নওয়াপাড়া উত্তরা ব্যাংক কর্মরত তমাল হোসেন (৩৬), ওয়াপদাপাড়ার সায়েম খান (৫০), গুয়াখোলার ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন হাওলাদার (৪৮), গৃহবধূ শেফালী বেগম (৫৫), কেশবপুরের ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান (৩২), নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের পাপ্পু (২২), ঢাকায় অবস্থানরত শার্শার বসন্তপুরের ইউনুস আলী (৫৫), ব্যবসায়ী শাহজান আলী (৬০), শার্শা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নাইমুর রহমান (৩৬), শার্শা দিঘিরপাড়ের শিক্ষক রমজান আলী (৪৬), বেনাপোলের সাংবাদিক আজিবর রহমান (২৭), খুলনা থেকে করোনা পজেটিভ আসা ব্যক্তির ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএম ডা. রেহেনেওয়াজ জানিয়েছেন, তার ঠিকানা খোঁজ করা হচ্ছে।