প্রতিবন্ধী ইসমাইল মন্ডল ভিক্ষা ছেড়ে অন্য পেশায় বাকি জীবন কাটাতে চান

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ নাম ইসমাইল মন্ডল। বয়স ৬১ বছর। উচ্চতা ৩ ফুট ৮ ইঞ্চি। পিতা মৃত আহার আলী মন্ডল, মাতা মৃত কদবানু। যশোর চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধী ইসমাইল হোসেন জীবনের প্রায় ৫০ বছরই পায়ে হেঁটে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর সেভাবে চলতে পারেন না। তাই জীবনের শেষ বয়সে এসে তিনি আর ভিক্ষা না, অন্য কোন পেশায় থেকে বাকি জীবনটা শেষ করতে চান। কিন্তু তেমন কোন সামর্থ না থাকায় ইসমাইল মন্ডল সহযোগিতা কামনা করেছেন সরকার বা সমাজের বিত্তবানদের কাছে।
ইসমাইল মন্ডল ৬ ভাই বোনের মধ্যে সেজো। অন্যরা সকলেই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও তিনি সেভাবে বেড়ে উঠতে পারেননি। জন্ম থেকেই তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবারের বোঝা হতে চাননি, তাইতো বাড়ির পাশেই এক বিত্তশালীর বাড়িতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে পেটে ভাতে কাজ নেন। কিন্তু অন্যদের মত তিনি কাজ করতে না পারায় বাড়ির মালিক তাকে অব্যহতি দেন। এরপর থেকে আর কোন উপায় না পেয়ে জীবন জীবিকার সন্ধানে তিনি ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে পিতামাতাকে হারান ইসমাইল মন্ডল। প্রতিবেশীরা পাশর্^বর্তী স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা গ্রামে তাকে বিয়ে দেন। ইসমাইল মন্ডল জানান, ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে আর এক মেয়ের বাবা তিনি। পৈত্রিকভাবে ইসমাইল মন্ডল ১ শতক জমিও পাননি। ভিক্ষা করে ৩১ বছর আগে ১১ শতক জমি কিনে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনের ঘর করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস তার। সপ্তাহে চারদিন তিনি চৌগাছা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে পায়ে হেঁটে ভিক্ষা করে দিনে ২’শ টাকা রোজগার করেন। তার এই রোজগার আর ছেলের আয়ের টাকা দিয়ে ৫ সদসের সংসার চলে। ইসমাইল মন্ডল আরও বলেন, সরকার থেকে মাসে ৭৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পান। এ ছাড়া আর কোন সুযোগ সুবিধা তিনি পান না। তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ বয়সে এসে এখন মনে হয় বাড়িতে বিশ্রামে থাকি, পরিবারের সাথে একটু সময় দিই। কিন্তু তা সম্ভব হয়ে উঠে না, ভিক্ষা না করলে সংসার অচল। যদি কোন দানশীল ব্যক্তি আয়ের একটি পথ করে দেন, তাহলে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে বাকি জীবনটা সেই পেশাকে আগলে রাখবো।’

ভাগ