ঝিকরগাছায় খাল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, কৃষকের ক্ষতি

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর) ॥ যশোরের ঝিকরগাছার শিয়ালঘোনা খালে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খাল পাশর্^বর্তী কৃষকরা। অথচ দেখার যেন কেউ নেই। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের শিয়ালঘোনা খালে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালি তুলছে দুর্বৃত্তরা। যে কারণে খালের দুই পাশের ফসলি জমির মাটি খালের মধ্যে ধসে পড়ছে। সরকারি এই খালে বালি তুলে লাভবান হচ্ছে দুর্বৃত্তরা। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ কৃষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, শিয়ালঘোনা খালে প্রভাব খাটিয়ে দুর্বৃত্তরা দীর্ঘদিন ধরে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছে। বালি তোলার কারণে আশপাশের জমি যেমন খালের মধ্যে ধসে পড়ছে, তেমনি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা প্রতিবাদ করলে দুর্বৃত্তরা নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শিয়ালঘোনা খালে শিমুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় এক ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে বালি উত্তোলন করা হচ্ছিল। সে সময় ঝিকরগাছার প্রশাসন বালি উত্তোলনকারীদের ধরে জরিমানা করেন এবং বালি তোলা বন্ধ করে দেন। এ সংক্রান্ত মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকার আতিয়ার রহমান নামের এক বালি ব্যবসায়ী প্রভাব খাটিয়ে মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছেন। যে কারণে খালের পাশে একাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিয়ালঘোনা গ্রামের ইউপি মেম্বার রফিকুল ইসলাম বলেন, সকলের মতামতের ভিত্তিতে তিনি দলীয় কার্যালয়ের জন্য সামান্য বালি উত্তোলন করতে গিয়ে মামলা খেয়েছেন। যে কারণে এরপর থেকে তিনি কোন খোঁজখবর রাখেন না। খাঁশখালী গ্রামের ইউপি মেম্বার ইসমাইল হোসেন জানান, বালি উত্তোলন নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বর্তমানে ঝিকরগাছার কেউ বালি তুলছেন না। শার্শা উপজেলার কেউ তুলছে কিনা তাও জানিনা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

ভাগ