স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সবজির বাজার দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে। মিলছে না ৫০ টাকা কেজির নিচে মানসম্মত কোনো সবজি। টমেটো ও গাজর কিনতে লাগছে ১০০ টাকা। চালের বাজারও অস্থিতিশীল। এ সপ্তাহে মোটা ও চিকন চালের কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে মুরগির দামও। এক হাজার টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না ইলিশ। সম্প্রতি সুপার সাইকোন আম্পান ও বর্ষার কারণে যশোরে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী দু মাসের আগে বাজারে নতুন সবজি আসছে না। বর্তমানে বাজারে সবজির দাম যথেষ্ট চড়া। করোনা ভাইরাসের কারণে লোকসমাগম কমাতে দু মাস আগে বড়বাজার থেকে সবজির বাজার যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও মাছ বাজার যশোর টাউন হল ময়দানে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল সোমবার ঈদগাহের অস্থায়ী সবজি বাজারে বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ টাকা, ঝিঙে ও কুশি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা ও গাজর ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবজির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এইচ এম এম রোডের কাঁচামালের আড়ত ‘আরিফ ভান্ডার’র অন্যতম স্বত্বাধিকারী সাহাবুদ্দিন মাতব্বর বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বর্ষায় চাষিদের সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতেই পচে নষ্ট হয়েছে অনেক সবজি। চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম হওয়ায় সবজির দাম চড়া। চাষিদের আগাম শীতের সবজি আসতে এখনও দু মাস সময় অপেক্ষা করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সবজির দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।’ বড়বাজারে চালের দাম এক জায়গায় স্থির থাকছে না। এ সপ্তাহে মোটা ও চিকন চালের প্রতি কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। সোমবার স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকা, বিআর-২৮ ধানের চাল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, কাজললতা ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, বাংলামতি ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ বিষয়ে যশোর চাল বাজার মালিক সমিতির সভাপতি ও পাইকারি চাল বিক্রেতা বড় বাজারের পিংকী স্টোরের মালিক সুশীল বিশ^াস জানান, বর্ষার কারণে হাসকিং মিলে চাল উৎপাদনে বিঘœ ও হাট-বাজারে ধানের দাম বাড়ার কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এদিকে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অজানা আশঙ্কায় ব্রয়লার মুরগির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল অনেকেই। বদনামের পক্ষে কারণ খুঁজে না পেয়ে আবারও সময়ের ব্যবধানে এই মুরগির দিকে ঝুঁকছে মানুষ। বর্তমানে আগের মতই আবার চাহিদা বেড়েছে। ৮০ টাকা কেজি দরে নেমে আসা ব্রয়লার এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বড়বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০, সোনালী ২৩০, দেশি মুরগি ৪৭০ টাকা। মুরগি ব্যবসায়ী মো. ফরিদ হাওলাদার সোমবার এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে বাজারে মুরগির আমদানি কম, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে। অন্যদিকে, যশোর টাউন হল ময়দানে অস্থায়ী মাছ বাজারে ইলিশ মাছের দাম চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকা, ৭০০/৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯৫০ টাকা। নদীতে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ায় বরিশাল, বরগুনা মোকাম থেকে যশোরে ইলিশ ঠিকমত আসছে না। এ কারণে দাম বেশি।





