কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ত্রেপাড়া গ্রামের দরিদ্র রাজমিস্ত্রির কন্যা কিশোরী সাবিকুন নাহার মিতু পিতার সংসারে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিতা ছিদ্দিক আলী (রাজমিন্ত্রি) বিচারের আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। অথচ পাচ্ছেন না কোন সুবিচার। মেয়েটি প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে বর্তমানে বিপর্যস্ত। সাকিবুন নাহারের পিতা ছিদ্দিক মালী অভিযোগ করেন, তার প্রতিবেশী সরোয়ার মালীর ছেলে হুসাইন মালী ২০১৬ সালে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার ১৩ বছরের মেয়ে মিতুকে দুই পরিবারের সম্মতি না নিয়ে বিয়ে করে। চার বছরের মাথায় তিনবার গর্ভপাত ঘটানো হয় তার মেয়েকে। গর্ভপাত ঘটাতে রাজি না হওয়ায় তার মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনকি হত্যার হুমকিও দেয় তারা। নির্যাতন সইতে না পেরে একপর্যায়ে গর্ভপাতে রাজি হয় তার নাবালিকা মেয়ে। এভাবে চলে তিন তিনবার গর্ভপাতের ঘটনা। ফলে দুরারোগ্য ব্যাধীতে আক্রান্ত হয় তার মেয়ে। মেয়ের চিকিৎসাসহ সকল দায়ভার এখন দরিদ্র পিতার ওপর। শ্বশুর বাড়ির লোকজন কোন খবরও নেয় না। ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার মেয়েকে সুস্থ করতে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। এখন মৃত্যু পথযাত্রী মেয়েকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। মেয়েকে হুসাইন মালীর পরিবার যে নির্যাতন করেছে এবং গর্ভপাতের মত জঘন্য কাজ করেছে আমি তার সঠিক বিচার চাই। এদিকে সরোয়ার মালী জানান, তিনি বা তার পরিবারের কেউ তার পুত্রবধূর উপর কোন প্রকার নির্যাতন করেনি। তার পরিবারের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবু বলেন, ‘আমি বারবার বিচার করে দিতে চাইলেও আমার বিচার মানতে চায়নি সরোয়ার মালির পরিবার। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিলাম যার উপদেষ্টা ছিলেন জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান মালী। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরোয়ার মালী (ছেলের পিতা) চিকিৎসার খরচ বাবদ মেয়ের পিতা ছিদ্দিক মালীকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেবেন বলে মেনে নিলেও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে তিনি মেয়ের পিতাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন।




